কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের সৃষ্ট মনগড়া তিন পদে ৩ কর্মকর্তা

  কুবি প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিছক মনগড়া তিনটি উপদেষ্টার পদ সৃষ্টি করে পছন্দের লোকদের বসিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। একাডেমিক বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের চেয়ে উপাচার্যের তোষামোদে ব্যস্ত এমন শিক্ষকদের অনিয়মতান্ত্রিক এ পদগুলোয় বসিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দীকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছানকে আইটি উপদেষ্টা এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে গণমাধ্যম উপদেষ্টার দায়িত্ব দিয়েছেন উপাচার্য। গেল বছরের ৮ নভেম্বর রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়া হলেও উপদেষ্টারা কি দায়িত্ব পালন করবেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা উল্লেখ নেই। দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বেশ কয়েকদিন ফেসবুক থেকে শুরু করে সর্বত্র চলে তাদেরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানানো। কিন্তু কেন এ দায়িত্ব এবং কি কাজ তাদের? বিষয়টির কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যাও নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। তারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন বলেও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা মনে করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন আইনেও এমন কোনো পদ বা দায়িত্বের হদিস পাওয়া যায়নি। নেই সিন্ডিকেটের অনুমোদনও। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়েও এমন কোনো পদ বা দায়িত্বের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য রয়েছেন প্রক্টর, আইটি সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য রয়েছে আইটি সেল ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত কাজের জন্য রয়েছে জনসংযোগ দফতর। এসব পদ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে তাদের ‘হুকুমাত’ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তারা এসব দায়িত্বে নিয়োজিতদের (উপাচার্যের কাছের হওয়ায়) খুশি করতে সদা ব্যস্ত থাকেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, উপাচার্যকে সবসময় তোষামোদ করেন এমন ব্যক্তিদের উপহারস্বরূপ এসব পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। গণমাধ্যম উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়া ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে বলেন, ‘আমি নতুন একটি পদ পেয়েছি এটি আমার জন্য আনন্দের। যদিও এমন পদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় কিনা সেটাও আমার জানা নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পদ বা দায়িত্বের বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমীর হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘উপাচার্যের অনেক নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও তিনি এ ধরনের পদ সৃষ্টি করতে পারেন না।’

অন্যদিকে বিভিন্ন সময় সংবাদকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে বা তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে তার নিয়োগকৃত গণমাধ্যম উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এমনকি তিনি (উপদেষ্টা) বিশ্ববিদ্যালয়ের নন বরং উপাচার্যের গণমাধ্যম উপদেষ্টা বলেই মনে করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে গতি নিয়ে আসার জন্য উপাচার্য এ ধরনের পদ তৈরি করতে পারেন এবং যে কাউকেই এসব পদে দায়িত্ব দিতে পারেন। সব বিষয় যে আইনে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এ পদগুলো আমরা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমার একার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো সম্ভব না। তাই যে ব্যক্তি যে বিষয়ে অভিজ্ঞ তাকে সে পদে দায়িত্ব দিয়ে তার থেকে সহযোগিতা নিচ্ছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×