সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রতীকের আত্মহত্যার পর মুখ খুলছেন অনেকেই

  সিলেট ব্যুরো ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী তাইফুর রহমান প্রতীকের আত্মহত্যার পর বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা তৎপর সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্ষোভ ঝেড়ে যাচ্ছেন কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতীকের আত্মহত্যার পর তার পরিবার, স্বজন ও শিক্ষার্থীদের একাংশ জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি- মাস্টার্সে নম্বর কম দেয়া এবং থিসিসের জন্য সুপারভাইজর না দেয়ায় প্রতীককে প্রাণ দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলার পর শুরু হওয়া সমালোচনার ঝড় এখনও বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন আরও অভিযোগ। অভিযুক্ত করা হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের।

তানিয়া আহমেদ নামের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শিক্ষক নিয়োগে অনৈতিকতার ঘটনা তুলে ধরেন। তানিয়ার দাবি, ‘আমি শাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া ছাত্রী। বাট আমি শিক্ষক হইনি এবং প্রতীকের মতো কষ্ট পেয়ে আত্মহত্যাও করিনি। আমি শিক্ষক হইনি কারণ আমি ছাত্রলীগ করতাম না। নিয়োগের দিন ভিসিসহ ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীদের ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে বোর্ড বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি সুইডেন চলে গেলে দু’বছর পর ওই ছাত্রলীগ নেতাকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় বলে তার অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে øাতকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করা পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসাইনের স্ট্রোক করে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে। মোজাম্মেলের বন্ধু তানভির আহসান সৌরভের অভিযোগ, ‘মোজাম্মেল অনার্সে প্রথম হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকরা তাকে পেছনে ফেলতে মাস্টার্সে নম্বর কম দেন। এতে সে ভেঙে পড়ে। স্ট্রোক করে মারা যায়।’

ইমরান আহমেদ নামের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হতো প্রতিপক্ষের হাতে। আজকাল তা আর দেখা যায় না। এখন শিক্ষার্থী ভাই ও বোনরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয় বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে বা সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকদের মাধ্যমে। যে নির্যাতন অপরাপর সব নির্যাতন থেকে শক্তিশালী। যা নীরবে সয়ে যেতে হয়, প্রতিবাদের উপায় থাকে না।’

শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও লিখছেন ফেসবুকে। ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনির হোসাইন লিখেছেন, ‘ছাত্র ও একজন ক্ষুদ্র শিক্ষক হিসেবে ১৩ বছর ধরে শাবির সঙ্গে জড়িয়ে আছি। ফলে বিভিন্ন বিভাগের ঘটিবাটির আওয়াজ মাঝে মাঝে শুনতে পাই। প্রতীকের আত্মহননে যে বিষয়গুলো আজ উঠে আসছে তার বাস্তব ভিত্তি নিশ্চয়ই আছে। বিনয়ের সঙ্গে একজন অভিযুক্ত শিক্ষক হিসেবে বলছি- স্যার সরি, নিজেকে আজ শিক্ষক ভাবতে কেন যেন বড় ঘেন্না হয়।’

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র-উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিভাগে শিক্ষকদের দ্বারা কোনো হয়রানির শিকার হলে ছাত্র উপদেষ্টার কাছে আসবে। এখানে আমরা চাইব তাদেন সমস্যার সমাধান করতে।

আমি মনে করি, যেখানে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বলা উচিত, সেখানে বলা। তাতেই সমাধান আসবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×