সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক মোজাম্মেল নিহত

২৭ বছর পর রায় পেলেও ক্ষতিপূরণ মিলছে না

তিন বছর ধরে ঝুলছে * প্রভাবশালীরা জড়িত পরিবারের অভিযোগ * এটা আদালত অবমাননা : ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ

  আলমগীর হোসেন ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা

১৯৮৯ সালে সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এ ঘটনায় মন্টুর স্ত্রী রওশন আখতার ২৭ বছর ধরে লড়াই চালিয়ে আদালতের রায় পেলেও ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করতে পারছেন না? সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী মন্টুর পরিবারের এক কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার ৮ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। কিন্তু বিবাদীপক্ষ বাংলাদেশ বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অর্থ দিচ্ছে না। রওশন আখতারের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ার পেছনে প্রভাবশালীরা জড়িত?

অর্থ আদায়ে ডিক্রি জারি মামলা হলে বিচারিক আদালত বিবাদীপক্ষের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। ওই কোম্পানির পাঁচ বিঘা জমি নিলামে বিক্রি করে মন্টুর পরিবারকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। কয়েক দফা নিলাম ডাকা হলেও রহস্যজনক কারণে ওই জমি বিক্রি করা যাচ্ছে না। এদিকে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টিকে আদালত অবমাননা বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় নিজ বাসার কাছে ট্রাকচাপায় মন্টু গুরুতর আহত হন। ১৬ ডিসেম্বর হাসপাতালে তিনি মারা যান। ১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি রওশন তিন কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন। নিম্ন আদালত তিন কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দানের নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট টাকার পরিমাণ কমিয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই কোটি এক লাখ টাকা দেয়ার ডিক্রি দেন। এ ডিক্রির বিরুদ্ধে সুপিমকোর্টে আপিল করে বিবাদীপক্ষ।

২০১৪ সালের ২০ জুলাই আপিল বিভাগের রায়ে ক্ষতিপূরণ বিষয় পুনর্নির্ধারণ করা হবে মর্মে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওই রায় পূর্ণাঙ্গ আকারে স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকাশিত না হওয়ায় ২০১৬ সালের ১০ ও ১৩ এপ্রিল পুনঃশুনানি হয়। ১৩ এপ্রিলের রায়ে টাকা আরও কমানো হয়। আপিলকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান।

সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে আইনজীবী খলিলুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সর্বশেষ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ এক কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার ৮ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় দেন। বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সেই টাকা এখনও দেয়নি। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে রায়ের পর ক্ষতিপূরণের অর্থ না দেয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা তা আদায়ের জন্য ডিক্রি জারির মামলা করি। ওই আদালত বিবাদীপক্ষের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এরপর ওই কোম্পানির তেজগাঁওয়ের পাঁচ বিঘা জমি নিলামে বিক্রির নির্দেশ দিয়ে ওই অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেন আদালত। তবে কয়েক দফা নিলাম ডাকা হলেও রহস্যজনক কারণে ওই জমি বিক্রি করা যাচ্ছে না।

মামলার বাদী রওশন আখতার যুগান্তরকে বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা এখনও আদায় হয়নি? মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি? আদালত বাংলাদেশ বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তেজগাঁও এলাকার জমি নিলাম করে টাকা দেয়ার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না? কারণ এর পেছনে প্রভাবশালীরা জড়িত? নিলামে জমির দাম ওঠে না? বারবার নিলাম বাতিল হয়? যে জমিটি নিলাম উঠেছে সেটি একটি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ দেয়া। তাই অনেকেই কিনতে চাচ্ছে না। এদিকে দুই সন্তান নিয়ে হুমকির মুখে আছি।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করাকে আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, যেখানে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেখানে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোম্পানিকে সেই টাকা দিতেই হবে। না হলে আদালত অবমাননার মামলা হতে পারে।

১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে মুন্সীগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মোজাম্মেল হোসেন মন্টু। ১৯৬৮ সালে তিনি দৈনিক সংবাদে সহসম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি বার্তা সম্পাদক হন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×