কক্সবাজারের ইয়াবা গডফাদাররা অধরা

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতদের অধিকাংশই ছোট বা মাঝারি শ্রেণীর

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়াবা

কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রায় অর্ধশত ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হলেও আইনের আওতায় আসেনি ইয়াবা গডফাদাররা। এছাড়া বর্তমানে যাদের আত্মসমর্পণের খবর শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যেও গডফাদার পর্যায়ের কেউ নেই। ফলে এসব গডফাদার চিরতরে অধরা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক তালিকায় কক্সবাজারের যে ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারির (গডফাদার) নাম ওঠে এসেছে তাদের মধ্যে শীর্ষে আছেন কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ ও উখিয়া) আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নাম।

এছাড়া রয়েছেন শাহপরী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ইয়াহিয়া, হাজী সাইফুল করিম, কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার দুই সহোদর শাহাজান আনসারি ও কাশেম আনসারি এবং পার্শ্ববর্তী লারপাড়ার দুই সহোদর আবুল কালাম ও বশির আহমদ। আরও আছেন টেকনাফে বদির পাঁচ ভাই আবদুল শুক্কুর, আবদুল আমিন, মৌলভী মুজিবুর রহমান, মো. সফিক, মো. ফয়সাল, ভাগ্নে সাহেদুর রহমান নিপু (ওসি আবদুর রহমানের ছেলে), বেয়াই শাহেদ কামাল, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেলসহ ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজন।

তালিকায় থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এই স্লোগানে দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলাবরুদ। তবে তাদের অধিকাংশই ছোট বা মাঝারি শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই মাদকের খুচরা ব্যবসায়ী, সেবনকারী এবং দরিদ্র ও নিুবিত্ত পরিবারের লোকজন। মাদক সাম্রাজ্যে এরা কেবল ‘বাহকের’ ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু যারা মাদক আমদানি থেকে শুরু করে দেশের বিশাল মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কেউই ধরা পড়েনি।

সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সর্বশেষ তালিকায় যেসব শীর্ষ ইয়াবা গডফাদারের নাম উঠেছে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় বীরদর্পে অবস্থান করছে নিজ নিজ এলাকায়। তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হল- টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও তার তিন ছেলে মোস্তাক মিয়া, দিদার মিয়া এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব মোরশেদ, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম, বিএনপি নেতা মো. আবদুল্লাহর দুই ভাই আবদুর রহমান ও জিয়াউর রহমান, টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রফিক উদ্দিন, তার ভাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন।

তালিকায় রয়েছে চকরিয়ার পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম এবং চকরিয়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন বলেন, জেলার শীর্ষ গডফাদারদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। তাদের পেছনে কারা শক্তি জোগাচ্ছে তাদেরও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সরকার মাদক নির্মূলে খুবই কঠোর এবং বদ্ধপরিকর।

ফলে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত আছে। তালিকাভুক্ত অনেক ইয়াবা গডফাদার এলাকাছাড়া হওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×