অর্থ আত্মসাতের ফাঁদ পার্সেল প্রতারণা

জড়িত এক নাইজেরিয়ানসহ ১১ * মানি লন্ডারিং মামলার অনুমোদন চেয়ে এনবিআরে চিঠি

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ আত্মসাতের ফাঁদ পার্সেল প্রতারণা

হ্যালো, আপনার নাম-ঠিকানায় বিদেশ থেকে একটি পার্সেল এসেছে। এতে মূল্যবান সামগ্রী ও ডলার আছে।

পার্সেল খালাসে রাজস্ব পরিশোধ, সিএন্ডএফ কমিশন, ইন্টারপোল এবং আইএমএফের অনুমোদন ও অনুমতি নিতে টাকা লাগবে। তাছাড়া পার্সেল খালাস করা যাবে না। এ জন্য জলদি কিছু টাকা পাঠান।

এভাবেই অভিনব কায়দায় একটি চক্র সহজ-সরল মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে। প্রতারণায় বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে কখনও প্রতারক চক্র নিজেদের কাস্টমস কমিশনার পরিচয়ে, আবার কখনও বিদেশিদের ব্যবহার করছে।

সর্বশেষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শাহেদা। একটি চক্র পার্সেলের কথা বলে তার কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত এক নাইজেরিয়ানসহ ১১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

গত ৭ নভেম্বর ড. শাহেদা এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়ে একটি পার্সেলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ১ সেপ্টেম্বর মুন্সী কাওসার আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিয়ে তার কাছে ফোন দেন এবং জানান, তার নামে বিদেশ থেকে একটি পার্সেল এসেছে।

একই দিনে তার ছোট ভাই লন্ডন থেকে ফোনে তাকে একটি পার্সেল পাঠানোর কথা জানান। পরে কাস্টমস কমিশনারের পক্ষে কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বলেন, পার্সেল খালাসে রাজস্ব পরিশোধ, সিএন্ডএফ কমিশন, ইন্টারপোল ও আইএমএফের অনুমোদন ও অনুমতি লাগবে। এজন্য টাকা প্রয়োজন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত কয়েক দফা পার্সেল খালাসের জন্য ৭টি অ্যাকাউন্টে ৬০ লাখ ২১ হাজার ৭০৬ টাকা দেন। কিন্তু পার্সেলটির হদিস পাননি।

চিঠি পাওয়ার পরপরই পার্সেলের খোঁজে মাঠে নামে শুল্ক গোয়েন্দা। তদন্তে শুল্ক গোয়েন্দা জানতে পারে, তার নামে আদৌ কোন পার্সেল আসেনি। অর্থ আত্মসাতের জন্য পার্সেলের নাটক সাজানো হয়েছে; যাতে এক নাইজেরিয়ানসহ ১১ জন জড়িত।

সূত্র জানায়, তদন্তের শুরুতে যেসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেসবের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। মোট ৬ ব্যক্তি ৭টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই টাকা লেনদেন করেন। অ্যাকাউন্টধারী, অ্যাকাউন্টের পরিচয়কারী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডাকা হয়। হাবিব নামে এক অ্যাকাউন্টধারী ছাড়া আর কেউ শুনানিতে উপস্থিত হয়নি। অবশ্য ব্যাংক কর্মকর্তা ও অ্যাকাউন্টের পরিচয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে হাবিব জানান, তার অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেছেন আসুজু ইমানুল নামের এক নাইজেরিয়ান। তিনি সম্পর্কে আসুজুর শ্যালিকার জামাই। আসুজু ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশে ২ বছর আগে আসেন এবং বিয়ে করেন। গত ২৯ অক্টোবর আসুজু ইমানুলকে গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

এই ইমানুলকে জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ধারণা করছে শুল্ক গোয়েন্দা। তদন্ত শেষে শুল্ক গোয়েন্দা জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাইজেরিয়ার নাগরিক আসুজু ইমানুলকে দায়ী করে এনবিআরে প্রতিবেদন পাঠায়। এতে মোট ১১ জনের নামে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার অনুমতি চাওয়া হয়।

অভিযুক্তরা হলেন- মো. হাবিব, লিটন মণ্ডল, মনিরুজ্জামান, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ আলী শেখ, রেজাউল করিম। এদের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হওয়ায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া লিটন মণ্ডলের হিসাব খোলার পরিচয়দানকারী আবদুল আউয়াল মিয়া, মোহাম্মদ আলী শেখের হিসাব খোলার পরিচয়দানকারী একেএম জানে আলম ও মো. জামাল এবং রেজাউল করিমের হিসাব খোলার পরিচয়দানকারী আজিম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুল্ক গোয়েন্দার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র মানুষকে পার্সেলের প্রতারণার মাধ্যমে ধোঁকা দিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। এনবিআরের অনুমোদন পেলে মানি লন্ডারিং আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পার্সেল জালিয়াতির ঘটনায় সিআইডি ৭ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে পাঁচজনই নাইজেরিয়ার নাগরিক, এরা রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল খেলতেন। বাকি দুজন বাংলাদেশি। এরা নিজেদের কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×