দুদকের অনুসন্ধানে মিলেছে তথ্য

চট্টগ্রামের অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ীর অঢেল সম্পদ

মামলার প্রস্তুতি

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ীর অঢেল সম্পদ

চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্ধশত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেড় বছরের অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে এখন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

মাদক ব্যবসা করে জেলে, নৌকার মাঝি, লবণ ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুর, বেকাররা কোটি কোটি টাকা ও অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। মাত্র কয়েক বছরে অনেকে গড়ে তুলেছে অর্থবিত্তের পাহাড়।

দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপসহকারী পরিচালক অজয় কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে।

অনুসন্ধান শেষে কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলার অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হবে।

সূত্র জানায়, এক সময়কার রেলস্টেশন এলাকার দিনমজুর মো. ইউসুফ নগরীর সবচেয়ে বড় মাদকের আখড়ার নিয়ন্ত্রক। মাদক ব্যবসার বদৌলতে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

মাদক ব্যবসা করে তার দেড়শ’ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল কবির চন্দনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

দায়িত্ব পেয়ে উপপরিচালক চন্দন একই বছরের ২০ ডিসেম্বর তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে নোটিশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি দুদক কার্যালয়ে হাজির হননি।

দুদকের নিজস্ব অনুসন্ধানে ইউসুফের অর্থবিত্তের পাহাড়ের তথ্য উঠে আসে। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে- পোড়া মসজিদ এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের প্রাসাদতুল্য বাড়ি, হালিশহরে মসজিদের পাশে আট গণ্ডা জমি, সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়িতে অর্ধশত কানি ধানী জমি, সিটি ও ব্র্যাক ব্যাংকে নিজের ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন, মাঝিরঘাট ও পোড়া মসজিদ এলাকায় ফ্ল্যাট ইত্যাদি।

তিনি নামে-বেনামে এসব সম্পদ অর্জন করেন। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থার (সিআইডি) কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদনেও ইউসুফের দেড়শ’ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এসবই তিনি গড়েছেন মাদক ব্যবসার টাকায়।

গত বছর মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে ইউসুফ ভুয়া ঠিকানায় পাসপোর্ট করে ভারতে পালিয়ে যান। পরে ভুয়া ঠিকানায় পাসপোর্ট করার বিষয়টি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলে পাসপোর্টটি বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

একইভাবে টেকনাফের আরেক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে। চট্টগ্রাম শহরে তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। গত বছর মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পর সাইফুল বিদেশে পালিয়ে যান।

শুধু ইউসুফ কিংবা সাইফুল নন; চট্টগ্রামের হালিশহরের করিম ওরফে ডাইল করিম, বিআরটিসির ফয়সাল, টেকনাফের সাইফুল করিম ও তার ভাই রেজাউল করিম, আনোয়ারার মোজাহের মিয়াসহ অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুদক।

অনেক নিম্ন আয়ের মানুষের অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার তথ্যও দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। উপপরিচালক চন্দন যুগান্তরকে বলেন, অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। কয়েকটি অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×