ঢাকায় ছিনতাই চক্র বেপরোয়া

সুযোগ পেলেই ছোঁ মারে ওঁৎ পেতে থাকা সদস্যরা

৫০ থানার দুই শতাধিক স্থানে অবাধ বিচরণ * মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়ায়

  ইকবাল হাসান ফরিদ ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সদস্য

ঢাকার রাস্তায় সুযোগ পেলেই ছিনতাইকারী চক্র ছোঁ মেরে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পথে পথে ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা দিনে-দুপুরেও ছিনতাই করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হঠাৎ ছিনতাইচক্রের তৎপরতা বেড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোরে পুলিশি নিরাপত্তার ঢিলেঢালাভাব থাকার সুযোগটা নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। শীতের মধ্যরাত থেকে কোলাহলমুক্ত ভোরে বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করলে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার করে। ছিনতাইকারীরা কখনও মোটরসাইকেল, কখনও প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস নিয়ে পথচারী বা রাস্তায় অপেক্ষমাণ ব্যক্তির কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী, ভ্যানিটি ব্যাগ, গলার চেন, মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মাঝেও এ ঘটনা ঘটছে।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইচক্রের তৎপরতা বেশি থাকে। নগরীর ৫০ থানার দুই শতাধিক স্থানে ছিনতাইচক্র তৎপর রয়েছে। ছিনতাইকারীরা ৩-৪ জন করে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে মূলত অপরাধ সংঘটিত করে। ছিনতাইয়ের কাজে বেশির ভাগ ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে। গোয়েন্দা সংস্থার ভুয়া পরিচয় দিয়ে ছিনতাইকারীরা নিরীহ সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেয়। তবে ছিনতাইয়ের শিকার অধিকাংশ মানুষ পুলিশের দ্বারস্থ হন না। আবার কেউ থানায় গেলেও মামলা না নিয়ে হারানোর জিডি হিসেবে এন্ট্রি করা হয়।

সোমবার হাতিরঝিলে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সহ-সম্পাদক শাকিলা হক ছিনতাইয়ের শিকার হন। খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে মগবাজার রেল ক্রসিং সংলগ্ন হাতিরঝিলের মুখে মোটরসাইকেলে দুই ছিনতাইকারী পেছন থেকে এসে ছোঁ মেরে তার ভ্যানেটি ব্যাগ নিয়ে যায়। ব্যাগে মোবাইল ফোন সেট, নগদ টাকা ও ব্যাংকের এটিএম কার্ডসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল।

১৬ জানুয়ারি ভোরে কমলাপুর রেল স্টেশনে যাওয়ার পথে মুরগীটোলা মোড়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ভ্যানেটি ব্যাগ ছিনতাই হয়। গেণ্ডারিয়ার লোহারপুল থেকে রিকশা করে তিনি কমলাপুর যাচ্ছিলেন। ছিনতাইয়ের শিকার ওই শিক্ষার্থী থানায় অভিযোগ না করেই রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তিনি বলেন, মামলার মতো বাড়তি ঝামেলায় জড়াতে চাই না। ৭ জানুয়ারি বিকালে রাজধানীর ইস্কাটন রোডে সাইদুল্লাহ সাঈদ (৫০) নামে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে গুলি করে তার অর্থকড়ি ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তার হাতে ও পায়ে চারটি গুলি লাগে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। দুয়েকটি প্রকাশ পেলেও অধিকাংশ ঘটনা থেকে যায় আড়ালে।

এদিকে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছে। ১৬ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুরানা পল্টন এলাকা থেকে বিল্লাল হোসেন, রাশেদ আলী ও আবদুস সালাম নামে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে র‌্যাব-৩-এর একটি দল। এর আগে ১১ জানুয়ারি রাতে মিরপুর থেকে ছয় ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তারা হল- গৌতম রাজবংশী, সুব্রত কুমার ঘোষ ওরফে শুভ, সুব্রত কুমার দত্ত, আবদুস সালাম, মাসুদ রানা ও মহিন। তাদের কাছ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দুটি চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে গৌতম পাঁচ বছর ধরে ছিনতাই করে আসছে। এ পর্যন্ত সে তিনবার গ্রেফতার হয়েছে। ১৪ সদস্যের ছিনতাই চক্রের দলনেতা গৌতম। তার অন্যতম শিষ্য শুভ জানায়, চার বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে দুটি করে ছিনতাই করে আসছিল তারা।

র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, পল্টন মোড় থেকে আটক ছিনতাইকারীরা ভোরের দিকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গ্রামের বাড়ি থেকে ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চে করে যারা ঢাকায় আসে তাদের বেশি টার্গেট করে ছিনতাইচক্র।

তিনি বলেন, অপরাধ দমনে র‌্যাব সব সময় সক্রিয় রয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি উত্তর) শাহজাহান সাজু যুগান্তরকে বলেন, ছিনতাইরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সাবধান হতে হবে। মধ্যরাতে কিংবা ভোরের দিকে যারা চলাফেরা করেন, তাদের অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করে চলা উচিত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×