মনসুর আলীর জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় তোফায়েল

নতুন মন্ত্রিসভা দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে

জাতীয় চার নেতার পরিবার শেখ হাসিনার সঙ্গে বেইমানি করবে না -নাসিম * দেশের যত উন্নয়ন তা শেখ হাসিনার হাত ধরেই হবে -জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার ভূয়সী প্রশংসা করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন তা দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার কাকরাইলে ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০২তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি তো অনেকবার মন্ত্রী ছিলাম। একদিন তো জায়গা ছেড়ে দিতেই হবে। ২৮ বছর বয়সে মন্ত্রী হয়েছি। এখন একঝাঁক নতুন এমপি দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা করা হয়েছে। স্বাভাবিক অর্থে আমরাও অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্ত্রী হইনি। মন্ত্রী হয়েই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমার বিশ্বাস নতুন মন্ত্রিসভা সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমাপ্ত করবে।

এই প্রবীণ আ’লীগ নেতা বলেন, বিএনপি বলেছে তারা পার্লামেন্টে যাবে না। একটি অবাধ নির্বাচন হয়েছে। মা-বোনেরা সারিবদ্ধভাবে ভোট দিয়েছেন। এই নির্বাচনকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তিনি বলেন, এ রকম একটি দিনের জন্য মানুষ অপেক্ষা করেছিল- কবে তারা সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে, যেখানে স্বাধীনতাবিরোধীরা থাকবে না। কবে এমন সংসদ হবে যেখানে খুনিরা থাকবে না। এবার সেই লক্ষ্যও তাদের পূরণ হয়েছে। এ সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বলেন আর বিএনপি বলেন, তারা জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করেছে। বাংলার মানুষ এখন স্বাধীনতার পক্ষে, যে তরুণ সমাজ ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় দেশের কল্পনা করে, সেই দেশে বিএনপি যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে তা অবাস্তব। আ’লীগ বাস্তবসম্মত ইশতেহার দিয়েছে। আমরা বলেছি, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। সরকার গ্রামকে শহরে পরিণত করার কাজও শুরু করেছে। বাল্যকালে অন্ধকারে বাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতাম। সেই গ্রাম শহরে রূপ নিয়েছে। এক হাতে মুঠোফোন, আরেক হাতে চায়ের কাপ। তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে ১০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হলে ৮ মিলিয়নই রফতানি করতে হতো, সেখানে ৮০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন করেও রফতানি করতে পারি না। গ্রামের মানুষ যে সচ্ছলতা অর্জন করেছে এটি তারই প্রমাণ। শহীদ মনসুর আলীর ছেলে ও আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ শহীদ এম মনসুর আলী, সবচেয়ে বেশি গৌরববোধ করি আমি তার সন্তান। তিনি বলেন, মনসুর আলী মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলেন তবুও বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের সঙ্গে বেইমানি করেননি। জাতীয় চার নেতার পরিবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করেনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বেইমানি করবে না। তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোট আদর্শিক জোট। জোটে কোনো বিভ্রান্তি নেই, ছিলও না। তিনি ১৪ দলের নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনাকে চোখের মণির মতো দেখা, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেয়া এবং যে কোনো চক্রান্ত মোকাবেলায় মাঠে থাকার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, এ বিজয় ধরে রাখতে হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা যেন আত্ম-অহমিকায় না ভুগি। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ১৪ দলীয় জোট হয়েছে সেটি যেন অটুট থাকে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মনসুর আলীর অবদান ইতিহাসে বিরল। তার রাজনৈতিক জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তিনি দলবান্ধব এবং দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন।

‘রক্তের উত্তরাধিকার থাকা দরকার’ মন্তব্য করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার যেমন আজকের শেখ হাসিনা তেমনি শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর উত্তরাধিকার আজকের মোহাম্মদ নাসিম ও তার ছেলে জয়। সফল রাজনীতিবিদ মনসুর আলীর সফল শিক্ষাজীবনের কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, মনসুর আলী ১৯৪১ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস ও ১৯৪৫ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও আইনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার মেধা আর জ্ঞানের প্রতিফলন তার কর্মজীবনে পড়েছে।

শহীদ এম মনসুর আলীর স্মৃতিচারণ করে সাইফুল আলম বলেন, ১৯৫১ সালে পাবনায় আইন পেশা শুরু করেন তিনি। সেই সময়ে তিনি পাবনা বার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন এটা অনেক সহজে ভাবা গেলেও সে সময় অত্যন্ত কঠিন ছিল। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ও ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনে তিনি জেল খেটেছেন। তিনি প্রায় এক ডজন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে এম মনসুর আলী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, বাকশালের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবনে এমন বর্ণাঢ্য কৃতিত্বের অধিকারী মানুষ খুব একটা দেখা যায় না। তিনি বলেন, এম মনসুর আলীর বিশ্বাস, আদর্শ, সততা, নিষ্ঠা, নেতার প্রতি আনুগত্য রক্ত দিয়ে তিনি শোধ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ শাসনে দক্ষতার বর্ণনা দিয়ে সাইফুল আলম বলেন, এ দেশে আইনের শাসন যেভাবে ভেঙে পড়েছিল সেখান থেকে তিনি দেশকে উদ্ধার করেছেন। দেশের ইতিহাসে ৫টি বিচার ছিল অত্যন্ত কঠিন ও স্পর্শকাতর। কেউ হাত দেয়ার সাহস করত না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, জেলহত্যা বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশের মানুষ চিন্তাই করতে পারেনি। কিন্তু এসবের বিচারের রায় ও তা কার্যকর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচারও তিনি করেছেন। দেশের যত উন্নয়ন তা তারই হাত ধরে হবে বলেও জানান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি। মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়–য়া, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ডা. আবদুল আজিজ, এম মনসুর আলীর দৌহিত্র তানভীর শাকিল জয়, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.ma[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×