চরফ্যাশনে কিশোর নির্যাতন

অপহরণ ও গণধর্ষণেও জড়িত মেম্বার আমজাদ

  অমিতাভ অপু ও শিপু ফরাজী, ভোলা ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলার চরফ্যাশনে কিশোর রুবেলকে অমানবিক নির্যাতনের হোতা ইউপি মেম্বার ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এবার গৃহবধূকে অপহরণ ও গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর কাহিনী বেরিয়ে এসেছে। সোমবার যুগান্তরে কিশোর রুবেলকে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বুধবার চরফ্যাশন শশীভূষণ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল আমজাদের বিরুদ্ধে গৃহবধূ অপহরণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছিল। আমজাদের নেতৃত্বে এক গৃহবধূকে অপহরণ ও গণধর্ষণের ঘটনা সত্য হলেও ওই সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ওই বছরের ৮ এপ্রিল রাতের ওই ঘটনা ওই সময় যুগান্তরেও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে আমজাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। উপরন্তু ওই গৃহবধূকে পরকীয়া ও যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অপবাদ দেয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান, ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ৫ দিন বিভিন্ন স্থানে রেখে গণধর্ষণ করা হয়। এমনকি ঢাকাগামী লঞ্চের কেবিনে আটকে রেখেও ধর্ষণ করা হয়েছিল। ওই সময় আমজাদের সঙ্গী অপর ধর্ষকদের মধ্যে ছিলেন- আবদুল আজিজ, মালেক, নুরুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, কামাল মোল্লা, মনির ও জাকির।

স্থানীয়রা জানান, ওই গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়া করার অপবাদে রাসেল নামের এক যুবককে ধরে এনে বেদম মারধর করার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় আমজাদ। একের পর এক এমন অপকর্ম করে গেলেও তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। সম্প্রতি মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে এক জেলে পরিবারের কিশোরকে ধরে এনে স্কুল মাঠে ফেলে প্রকাশ্যে নির্যাতনের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। আর এরপরই বেরিয়ে আসে তার নানা অপকর্মের ফিরিস্তি।

এদিকে মঙ্গলবার নির্যাতিত কিশোর মো. রুবেলের চিকিৎসার ভার নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। রুবেলের মা বিলকিস বেগমের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি। অভিযুক্ত আমজাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন। ভোলার পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন জানান, কিশোর রুবেলের ওপর নির্যাতনকারী ৬ আসামির মধ্যে বাবুল মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল হোতা আমজাদকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন- মো. কবির হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর, মো. হোসেন ও মো. মামুন। এরাও পলাতক। গ্রেফতার বাবুল মাঝিকে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। কিশোর রুবেলের মা বিলকিস বেগম বলেন, মারধরের পর রুবেলকে মেম্বার আমজাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ওই টাকা জোগাড় করতে গলার স্বর্ণের চেইন ও নাকফুল বন্ধক রাখতে হয়েছে। এতদিন টাকার জন্য রুবেলের চিকিৎসাও ঠিকমতো করাতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

আদালতের নির্দেশ : এদিকে কিশোর রুবেলের ওপর এমন নির্যাতনের কাহিনী প্রকাশ পেলে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি এসআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্জ ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বশারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×