সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত

অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারি কেনাকাটায় উন্মুক্ত দরপত্র

জ্বালানি তেল আমদানি ১৪ লাখ টন * ৫৯০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন * দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন স্থাপনে পরামর্শক নিয়োগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি

দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি কেনাকাটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কোনো কাজে অনিয়ম ও ব্যত্যয় ঘটতে দেয়া যাবে না।

অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বুধবারের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সরকারি কেনাকাটা একটি বড় পরিসর। এখানে অনিয়ম হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অপচয় এবং ব্যয় বাড়বে। কেনাকাটায় নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করায় ওই বৈঠকে চাঁদপুরের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়নি। এছাড়া পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

সচিবালয়ে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক দুটি বৈঠক। দুটি কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট তিনি আর কোথাও কোনো কাজেই অনিয়ম, ব্যত্যয় ও ত্রুটি দেখতে চাচ্ছেন না। সরকারি কেনাকাটা একটি বড় বিষয়। এক্ষেত্রে সঠিক দাম নির্ধারণ করতে না পারলে অপচয় ও ব্যয় বাড়বে। আমাদের সিদ্ধান্ত- অপচয় রোধ করে স্বচ্ছতার নিরিখে প্রতিটি কেনাকাটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করার চেষ্টা করা।

দোহাজারি থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের নিকটবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৩৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতি দ্রুত যাওয়া যাবে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। মূল সমস্যা ছিল ভূমি অধিগ্রহণ। সে সমস্যা নেই, প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া গেছে। আগামী ২০২২ সালে এ প্রকল্পটি শেষ করার কথা। এছাড়া চলতি বছরের জন্য বিদেশ থেকে ১৪ লাখ ২০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়।

এতে ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ১১ লাখ ৯০ হাজার টন, জেড এ-১ এক লাখ টন, মোটর গ্যাস ৩০ হাজার টন, ফার্নেস অয়েল এক লাখ টন। সরকার টু সরকার পর্যায়ে ৬টি দেশ থেকে আমদানি করা হবে। দেশগুলো হচ্ছে- ফিলিপাইন, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন ও ইন্দোনেশিয়া।সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম আনোয়ারায় ৫৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়। এটি স্থাপন করবে দেশি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এবং বিদেশি কোম্পানি ক্রাইসু ও অজিস।

২২ বছর মেয়াদি এ প্ল্যানটি স্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী এ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, এতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।

ওই বৈঠকে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ এলাকার আওতায় দেড় লাখ মিটার বিতরণের জন্য এটি কেনা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের এ প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়া এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রস্তুতকরণ শীর্ষক প্রকল্পের ডব্লিউপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় ১০১ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাবটিও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠকে আরও চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও বিভিন্ন কারণে সেগুলো অনুমোদন দেয়া হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×