মাদকের গোল্ডেন জোন গোদাগাড়ী

আত্মসমর্পণের অপেক্ষায় তিন শতাধিক চোরাকারবারি

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চোরাচালান

দেশে হেরোইন চোরাচালানের সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্ত ও সংলগ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্ত। মাদক পাচারের গোল্ডেন জোন হিসেবে খ্যাত এই সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে তিন শতাধিক হেরোইন চোরাকারবারি।

এদের মধ্যে শতাধিক মাদক সম্রাটও রয়েছে, যারা ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন এনে সারাদেশে সরবরাহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। হেরোইনের পাশাপাশি শুধু গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকাতেই রয়েছে দুই শতাধিক ইয়াবা কারবারি, যারা ভারত ও কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে বরেন্দ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইয়াবার সঙ্গে যেমন টেকনাফের নামটি গভীরভাবে জড়িয়েছে তেমনি হেরোইনের সঙ্গে গোদাগাড়ীর নামটিও সমার্থক হয়ে উঠেছে।

গোদাগাড়ীর তিন শতাধিক মাদক কারবারিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে বলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গোদাগাড়ীর মাদক ব্যবসায়ীরাও আত্মসমর্পণের অপেক্ষা করছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একটি নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা গোদাগাড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করবেন বলেও জানা গেছে। গোদাগাড়ীর স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সম্প্রতি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গত বছর মে মাস থেকে শুরু হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী কঠোর অভিযানের কারণে গোদাগাড়ীর অধিকাংশ মাদকসম্রাট এখন এলাকাছাড়া। কেউ ভারতে, কেউ মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলে গেছে। আবার অনেকেই রাজশাহী মহানগরীসহ ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। তারপরও গোদাগাড়ী সীমান্তে মাদকের কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গোদাগাড়ী সীমান্ত পথে এখনও হেরোইন আসছে ভারত থেকে।

এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করলেও ফোনে মাদকের নেটওয়ার্ক সচল রেখেছে মাদক সম্রাটরা। রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ পিপিএম-বিপিএম যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনার আলোকে রাজশাহীতে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি গোদাগাড়ী এলাকার মাদক কারবারিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে তাদের আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আত্মসমর্পণকারী যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে সেসব মামলা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলমান থাকবে। যাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হবে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদেরকে অঙ্গীকারনামা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে। পরবর্তীতে সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ফের মাদক ব্যবসায় জড়িত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোদাগাড়ীর তিন শতাধিক হেরোইন চোরাকারবারির মধ্যে ৩১ জন কারাগারে রয়েছে। বাকিদের মধ্যে শীর্ষ মাদক সম্রাট আবদুর রহিম টিপু, তার ভাই মনিরুল ইসলাম মনির, মেহেদী, শীষ মোহাম্মদ, তার ভাই হায়দার আলী, উজ্জল হোসেন, রেলবাজারের মতিন ওরফে মতি, মুত্তাসিন, কালিদিঘির কামরুল, শহীদুল ইসলাম ভোদল, তোফাজ্জল হোসেন, সেলিম, সোহেল, হযরত, কাবাতুল্লাহ ও জহুরুলসহ অন্যরা আত্মগোপনে থেকে কারবার চালাচ্ছে।

এদের মধ্যে সোর্স পরিচয়ে, উজ্জল, মতিন ও মুত্তাসিন নির্বিঘেœ মাদকের কারবার চালাচ্ছে। তারা অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেয়ার নাম করে এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের নামে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেকের।

এদিকে হেরোইন কারবারি ছাড়াও গোদাগাড়ী এলাকায় ইয়াবার পাইকারি ও খুচরা কারবারি রয়েছে দুই শতাধিক। এদের কয়েকজন কারাগারে থাকলেও অধিকাংশই মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আরও জানা গেছে, যারা ১০ বছর বা তারও আগে গোদাগাড়িতে হেরোইনের কারবার করত তাদের অনেকেই মাদকের ব্যবসা ত্যাগ করেছে। মূলত তারাই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা খুঁজছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×