পুরনো লেখায় নতুন বই

  হক ফারুক আহমেদ ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরনো লেখায় নতুন বই

গ্রন্থমেলার পাঠকদের প্রধান আগ্রহ নতুন বইয়ে। তারা বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ক্যাটালগ সংগ্রহ করে প্রথমেই চলে যান এ বছরের নতুন বইয়ের তালিকায়। এ তালিকার একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন খ্যাতিমান লেখকের পূর্বে প্রকাশিত গল্প, উপন্যাস, গদ্য, কবিতা, প্রবন্ধের সংকলন নিয়ে সমগ্র ও রচনাবলি। অনেক সময় আবার লেখকের লেখা একটি বিষয়ে নানা সাহিত্যকর্মকে একত্র করেও নতুন মোড়ক দেয়া হচ্ছে।

পুরনো লেখাগুলোই শুধু একটি বিশেষ ভূমিকা লিখে প্রকাশ করা হচ্ছে। রাতারাতি দেয়া হচ্ছে বইয়ের নতুন নামও। মেলায় বর্তমানে এ ধরনের সংকলন প্রকাশের প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই ধরনেরই মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে খোদ প্রকাশকদের কাছ থেকে। তাম্রলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী একেএম তারিকুল ইসলাম রনি যুগান্তরকে বলেন, এটা সত্যি যে, সংকলন বা সমগ্রের বইয়ে লেখকের নতুন কোনো লেখা নেই। কিন্তু যে বইটি প্রস্তুত হল সেটি তো নতুন। অনেক পাঠকই তার প্রিয় লেখকের সব কটি লেখা এক মোড়কে পেতে চান।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনার আরেক স্বত্বাধিকারী বলেন, মেলায় বর্তমানে নতুন বইয়ের নামে সংকলনের বই প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এটি কিন্তু আরেকটি বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়, আমাদের দেশে বর্তমানে আসলে ভালো লেখকের নতুন লেখার সংকট রয়েছে। অনেক প্রকাশক নতুন বইয়ের নাম করে সংকলন প্রকাশ করে কম বিনিয়োগে মুনাফা তুলতে চাইছেন। এ ধরনের বই সত্যিকার অর্থে নতুন বইয়ের ক্যাটাগরিতে আসা উচিত নয়। কারণ, এখানে আসলে পাঠকের জন্য নতুন কোনো লেখা নেই।

গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখা গেছে, হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা জীবনানন্দ দাশ- খ্যাতিমান প্রায় সব লেখকের সংকলন বা সমগ্রর বই নতুন বই হিসেবে মেলায় আসছে। শুধু তাই নয় অনেক লেখকের পুরনো সাহিত্যকর্মের একক বইগুলোও নতুন মোড়ক নিয়ে নতুন বইয়ের নামে মেলায় আসছে।

রোববার গ্রন্থমেলা পরিদর্শনে আসেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রন্থমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এ মেলা এখন উৎসবে রূপ নিয়েছে। মেলা শুরুর আগে আমরা লেখক-প্রকাশকসহ দেশের সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছিলাম। আমরা সত্যিই সবার কাছ থেকে সেই সহযোগিতা পাচ্ছি। মেলাসহ আশপাশের পুরো এলাকায়ই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্মীয় উসকানিমূলক বা শ্রেণীবৈষম্য তৈরি করতে পারে- এ ধরনের বই যাতে মেলায় প্রকাশ না হয় সে জন্যও আমাদের বিশেষ টিম কাজ করছে।

চতুর্থ দিনের নতুন বই : গ্রন্থমেলার তথ্য কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, রোববার মেলার চতুর্থ দিনে ১১১টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে গল্প ৯, উপন্যাস ১৯, প্রবন্ধ ৮, কবিতা ২৬, গবেষণা ৩, ছড়া ৪, শিশুসাহিত্য ৫, জীবনী ২, মুক্তিযুদ্ধ ১, নাটক ৪, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ৬, ইতিহাস ৩, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ১, ধর্মীয় ২, অনুবাদ ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ৫ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর এসেছে ৯টি নতুন বই।

এর মধ্যে তিন বছর পর মেলায় এসেছে নির্মলেন্দু গুণের নতুন কবিতার বই ‘একটি সন্তানসম্ভবা পাখির গল্প’। বইটি এনেছে অবসর প্রকাশনা। অবসর থেকে প্রকাশ হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘সেরা সাত মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস’ ও একেএম শাহনাওয়াজের ‘মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১: হাজার বছরের উত্তরাধিকার’, তাম্রলিপি প্রকাশ করেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘সাইক্লোন’, আগামী থেকে এসেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘সময় অসময়’, সুধাংশু শেখর বিশ্বাসের ‘সোনালি ডানার চিল: শৈশব, কৈশোর’, ইন্তামিন প্রকাশন এনেছে অসীম সাহার ‘পাঁজর ভাঙার শব্দ’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে লিয়াকত হোসেন খোকনের ‘বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড’, যুক্ত এনেছে করুণাময় গোস্বামীর ‘লাহোরে রহিম খের’, অন্বেষা এনেছে নানজিবা খানের ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’, পলল এনেছে ড. মিজানুর রহমানের ‘সমাজ রাষ্ট্র মানবাধিকার’, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এনেছে গবেষণা গ্রন্থ ‘শিশু ও শিশুর অধিকার’, অনন্যা এনেছে মহাদেব সাহার ‘অনন্তের বাঁশি’।

মূলমঞ্চের আয়োজন :

রোববার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহিদ রণদাপ্রসাদ সাহা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিভা মুৎসুদ্দি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রমণীমোহন দেবনাথ, হেনা সুলতানা এবং আজিজুর রহমান আজিজ। সভাপতিত্ব করেন রফিকুল ইসলাম। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী নাদিরা বেগম, আজগর আলীম, অনিমা মুক্তি গোমেজ।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter