নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা

নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে রাকসু

  রাজশাহী ব্যুরো ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের পালেও হাওয়া লেগেছে। ইতিমধ্যে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ফলে প্রায় তিন দশক পর ছাত্র নেতৃত্ব তৈরির কারখানা বলে খ্যাত রাকসু নিয়ে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ সুগম হবে।

১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে প্রথম রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত ১৪ বার রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ সেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ বছর পর রাকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রত্যাশার দানা বাঁধছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং ছাত্রবান্ধব নেতৃত্ব সামনে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। যারা শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবারের মান, বর্ধিত ভর্তি ফি, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, নিরাপত্তাসহ সব বিষয় নিয়ে কাজ করবেন তাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমর্থন দেবেন।

ছাত্রলীগ রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাকসু আমাদের প্রাণের দাবি। আমি সভাপতি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যে ২২ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছিলাম তার প্রথম দফা ছিল রাকসু নির্বাচন। রাকসু সচল হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা ও বর্ধিত ভর্তি ফিসহ ছাত্রদের সব সমস্যা সমাধানে কথা বলা যাবে।

ছাত্রদল রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, রাকসু সচল হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, খাবারের মান, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, ভর্তি ফি সমস্যার সমাধান হবে। যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিত্বের অধিকারীরা নির্বাচিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তারা কাজ করবেন। ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে যারা নিজেদের ভাবেন এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন করতে হবে। রাকসুর নেতৃত্বে যারা আসবেন তারা সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন।

ছাত্র ইউনিয়ন রাবি শাখার সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, রাকসুর নেতৃত্বে যেই আসুক, আমাদের চাওয়া থাকবে তারা যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশ হিসেবে আসেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে যারা কথা বলেন তারা তাদের সত্যিকারের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। নতুন নেতৃত্বের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে ২৮ বছর যে রীতি চালু আছে তার অবসান ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করবে।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফিদেল মনির বলেন, আমরা চাইব রাকসুর নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। যারা দল-মতের ঊর্ধ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধান, ভর্তি ফি কমানো, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগতদের আগমনে বিধি-নিষেধ আরোপ, বাসের ট্রিপ বাড়ানোসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

রাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংলাপের জন্য ভিসি অধ্যাপক আবদুস সোবহান একটি কমিটি গঠন করেছেন। প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সংলাপের অগ্রগতি বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দুুটি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ করেছি। আগামী ১৭, ২০ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ এবং বাকিদের সঙ্গেও খুব দ্রুত সংলাপ করা হবে। কবেনাগাদ সংলাপ শেষ হতে পারে- এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি লুৎফর রহমান। তবে তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব দ্রুত সংলাপ শেষ করার চেষ্টা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- বাস্তব জীবনে কর্মদক্ষতা, যোগ্য নাগরিক ও নেতৃত্ব গড়ে তোলা; শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া সৃষ্টি; বক্তৃতা, লেখন, বিতর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করতে কাজ করবে রাকসু।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×