চট্টগ্রামে জ্বালানি পণ্য সরবরাহে বৈষম্য

এসএওসিএল করছে ব্যবসা আর বিপিসি গুনছে সুদ * উপেক্ষিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা * বিটুমিনে অনিয়ম প্রকট

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি পণ্য

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্বালানি পণ্য সরবরাহে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক নির্মাণের প্রধান উপকরণ বিটুমিন ও বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য সরবরাহে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল)-কে ইআরএল বাড়তি পণ্য সরবরাহ করছে। অপরদিকে, অন্য তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছে না। বিশেষ করে বিটুমিনের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে এসএওসিএলের প্রতি ইআরএলের বিশেষ দুর্বলতার রহস্য কী?

অভিযোগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ইআরএলের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে এসওসিএল বাড়তি জ্বালানি পণ্য বাগিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘আন্ডার হ্যান্ড ডিলিংস’ হচ্ছে। বিটুমিন, ডিজেল, ফারনেস অয়েল, লুব অয়েল ও এলপিজি গ্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য সরবরাহ করে ইআরএল। বিপিসির মাধ্যমে আমদানি করা এসব জ্বালানি পণ্য ইআরএলের মাধ্যমে বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছে বিতরণ করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ বিটুমিন পাবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বণ্টন নীতিমালা অনুযায়ী বিপণন কোম্পানিগুলোর মধ্যে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেড চাহিদার ৩০ শতাংশ করে বিটুমিন পাওয়ার কথা। একইভাবে এসএওসিএল চাহিদার ১০ শতাংশ বিটুমিন পাবে বলে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়।

এ সংক্রান্ত নীতিমালাও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, অন্য তিন কোম্পানির মতো এসএওসিএল-কেও সমপরিমাণ বিটুমিন ও এলপিজি সরবরাহ করে আসছে ইআরএল।

সূত্র জানায়, বিপিসি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জ্বালানি পণ্য আমদানি করে থাকে। কিন্তু এসএওসিএলকে বাকিতে কোটি কোটি টাকার পণ্য দেয়া হচ্ছে। এসএওসিএল ব্যবসা করছে আর বিপিসি গুনছে সুদ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী ফারনেস অয়েল ও ডিজেল ক্রয় বাবদ এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিপিসির পাওনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির (এসএওসিএল) কাছে। পরবর্তী পাওনার হিসাব কোম্পানিটি প্রদর্শন না করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, এসএওসিএলের কাছে বর্তমানেও অন্তত এক হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে।

পক্ষান্তরে অন্য তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার কাছে বিপিসির পাওনা নেই বললেই চলে। এরপরও এ তিন কোম্পানি বিপিসির আমদানি করা ও ইআরএলের উৎপাদিত জ্বালানি পণ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি এসএওসিএলের তহবিল থেকে বেসরকারি মালিকরা ৬০ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে সেই অভিযোগের।

সূত্র জানায়, বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে দুই হাজার থেকে ২২০০ ড্রাম বিটুমিন পেয়ে আসে। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে গড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ৯০০ ড্রাম করে বিটুমিন পাচ্ছে। প্রায় সমপরিমাণ বিটুমিন পায় এসএওসিএল। শুধু বিটুমিন নয়, এলপি গ্যাসসহ অন্যসব জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রেও এসএওসিএল বাড়তি বরাদ্দ পেয়ে আসছে। সূত্র আরও জানায়, এসএওসিএলের পণ্য বিক্রির আওতা সিলেট বিভাগ হলেও অভিযোগ, এ বিভাগ থেকে বিটুমিন বা জ্বালানি পণ্যের রিকুইজিশন তেমন আসে না।

এমনকি সিলেটে এলপি গ্যাস বিক্রির জন্য এসএওসিএলের কোনো ডিলারও নেই। অথচ ডিলারের মাধ্যমেই এসব পণ্য বিক্রির কথা। এ প্রসঙ্গে জানার জন্য এসএওসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শাহেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জ্বালানি পণ্য বরাদ্দে এসএওসিএলের প্রতি ‘বিশেষ দুর্বলতা’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতারুল ইসলাম সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, সব বিপণন কোম্পানিই আমাদের জন্য সমান। বিপিসি আমাদের যেভাবে অ্যাসাইন করে আমরা সেভাবেই পণ্য বরাদ্দ দিয়ে থাকি। শুধু বিটুমিন নয়; আমাদের উৎপাদিত সব জ্বালানি পণ্যই আমরা বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী বিপণন কোম্পানিগুলোকে বরাদ্দ দেই। কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপিসি কত টাকা পাবে তা দেখার দায়িত্ব ইআরএলের নয়।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×