রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ

১ লিটার ডিজেল উৎপাদনে ব্যয় হবে ২৫ টাকা

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এরই মধ্যে জ্বালানি উৎপাদনে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে রাসিক।

আর বিদ্যুৎ তৈরিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চলছে আলোচনা। নগর সংস্থা বলছে, পরিবেশসম্মত নগরী গড়তে চায় রাসিক। কিন্তু দিনে দিনে ভাগাড়ে জমছে বর্জ্যরে পাহাড়। এখনই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় না গেলে সংকট আরও বাড়বে।

রাসিকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন নগরীতে গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টন। এর প্রায় ১৫ শতাংশই ব্যবহার নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য হুমকি প্লাস্টিক-পলিথিন। দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থেকে এই প্লাস্টিক-পলিথিন কৃষি ও পরিবেশের মারাÍক বিঘœ ঘটাচ্ছে।

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস সড়ক সংলগ্ন নগরীর সিটি পশুহাট এলাকায় রাসিকের ভাগাড়। ১৯৯৫ সালে ১২ একর আয়তনের এই ভাগাড়ে বর্জ্য ডাম্পিং শুরু করা হয়। কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বাড়ছে বর্জ্যরে স্তূপ। এতে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে নগরীর ভেতরেও। তবে পুরো প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হলে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে।

এ পরিকল্পনা থেকেই ‘কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাসিক। পরিকল্পিতভাবে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৯২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে রাসিক। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি নগরীর বর্জ্যে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেল ও এলপিজি গ্যাস তৈরি করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে আড়াই বছর। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি রাসিকের ভাগাড় সংলগ্ন ৭ শতাংশ ভূমিতে নিজস্ব অর্থায়নে প্ল্যান্ট পরিচালনা করবে। তাতে বর্জ্য সরবরাহ করবে রাসিক। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি এই প্ল্যান্ট বসাবে বলে রাসিকের সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে প্লাস্টিক-পলিথিন বাদে বাকি ৮৫ শতাংশ বর্জ্য নিয়েও ভাবছে নগর কর্তৃপক্ষ। তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করছে রাসিক। রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে রাসিক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নগরীর প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য অচিরেই প্রক্রিয়াজাত শুরু হবে।

ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি লিমিটেডের চেয়ারম্যান কানাডিয়ান নাগরিক ড. মঈন উদ্দিন সরকার বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশের জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য চরম হুমকি। কিন্তু এ বর্র্জ্য যথাযথ প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধিতে কাজে লাগানো সম্ভব। মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পলিথিন পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর। এ উদ্যোগ সফল হলে নগরী বর্জ্যমুক্ত হবে, পাওয়া যাবে জ্বালানি।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×