যাত্রাবাড়ীতে সালমা হত্যা

খুনে অংশ নেয় বান্ধবী রাবেয়াও

১৬৪ ধারায় জবানবন্দি * পলাতক মূল আসামি ফোরকান ও কালাম

  সিরাজুল ইসলাম ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একই কক্ষে থাকতেন সালমা আক্তার (৩৮) ও তার বান্ধবী রাবেয়া (৩৫)। রাজধানীর কুতুবখালীর বাসা থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে দরজা ভেঙে সালমার লাশ উদ্ধার করে, পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল রাবেয়া। চিকিৎসার জন্য রাবেয়াকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে রাবেয়াকে ভিকটিম হিসেবে ধরে নিয়েই তদন্ত শুরু করে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহ হয় পুলিশের। ফলে ১৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয় রাবেয়াকে। বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। ভিকটিম ও বান্ধবী রাবেয়া স্বীকার করেন সালমাকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা। ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জুলফিকার আলী বলেন, এ ঘটনায় সালমার মামা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে মূল আসামি মো. ফোরকান (২০) ও আবুল কালামকে (৫০) আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই ওই দু’জন পলাতক।

এসআই জুলফিকার আলী বলেন, রাবেয়াকে আমরা প্রথমে ভিকটিম মনে করেছিলাম। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এ সময় তার কথাবার্তা এলোমেলো মনে হয়। তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে রাবেয়া জানান, হত্যাকাণ্ডে তিনি নিজেও জড়িত ছিলেন।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে রাবেয়া বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর ২২/বি উত্তর কুতুবখালীর পাঁচতলা বাড়ির চতুর্থতলার একটি ফ্ল্যাটে আমি, সালমা ও ফোরকান ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীর রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি, সালমাকে মারধর করছে ফোরকান। বাধা দিলে ফোরকান আমাকেও মারধর করে। ভয় দেখিয়ে বলে, সালমাকে খুন করব। সহযোগিতা না করলে তোকেও খুন করব। ফোরকান মারধর শুরু করলে ভয়ে আমি সহযোগিতা করি। সালমাকে হাতুড়ি দিয়ে ৪টি আঘাত করি। একপর্যায়ে সালমা নিস্তেজ হয়ে পড়লে ফোরকান আমাকে ও সালমাকে ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। সালমার অবস্থা দেখে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরদিন দুপুরে জ্ঞান ফিরলে আমি বিষয়টি ফোনে সালমার মা-বাবাকে জানাই। সালমার মা তার ভাই সালমার মামা জাহাঙ্গীরকে জানান। পরে জাহাঙ্গীর আশপাশের লোকজন ও পুলিশ এসে আমাকে ও নিহত সালমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রাবেয়া জানান, তিনি ও সালমা দেহ ব্যবসায় জড়িত। আবুল কালাম ও সালমা আক্তার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কুতুবখালীর ওই বাসা ভাড়া নেন। ফোরকান ক্লায়েন্ট সরবরাহ করত। মাঝে-মধ্যে সেও ওই বাসায় থাকত। ঘটনার দিন সালমার সঙ্গে ফোরকান শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চায়। কিন্তু সালমা রাজি হয়নি। এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে ফোরকান সালমাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। রাবেয়াও কপালে আঘাত পায়। একপর্যায়ে ফোরকান বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, রাবেয়ার স্বীকারোক্তিতে ঘটনার রহস্য অনেকটা বেরিয়ে এসেছে। আমরা এখন ফোরকান ও কালামকে খুঁজছি। ফোরকানই মূল ঘাতক। তাকে পাওয়া গেলেই পুরো রহস্য বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×