নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলা

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীর

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার বন্দুকধারীর হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে একজন হলেন গৃহবধূ হোসনে আরা পারভীন। গোলাগুলির শব্দ শুনে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। স্বামীকে পুরুষ মসজিদে দিয়ে পৃথক মসজিদে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি স্বামীকে বাঁচাতে বের হন। এ সময় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে পারভীন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত অন্য দুইজনের মধ্যে একজন হলেন স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ। পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সামাদ নিউজিল্যান্ডে পাড়ি দিয়েছিলেন। অন্যজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, মসজিদে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে এক বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত পারভীনের বাড়ি সিলেটে। এ হামলা থেকে বেঁচে গেছেন তার অসুস্থ স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ফরিদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। পারভীনের বাবার বাড়ি গোলাপগঞ্জের উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামে। তার বাবার নাম নুরুদ্দিন। পারভীনরা তিন বোন ও দুই ভাই। পারভীনের ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী জানান, ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় ওই মসজিদের একাংশে নারীরা ও অন্য অংশে পুরুষরা নামাজ আদায় করেন। ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা আগে পারভীন তার অসুস্থ স্বামীকে (প্যারালাইজড) নিয়ে মসজিদে যান। স্বামীকে হুইল চেয়ারে করে মসজিদের পুরুষদের অংশে রেখে তিনি অন্য অংশে নামাজ আদায় করতে যান। কিন্তু প্রায় ১৫ মিনিট পর গুলির শব্দ শুনে তিনি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য বের হন। এ সময় সন্ত্রাসীর গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন। মাহফুজ আরও জানান, মসজিদের বাইরে গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মুসল্লি হুইল চেয়ারে করে ফরিদ উদ্দিনকে বের করে নেয়ায় তিনি বেঁচে গেছেন। সে দেশে বসবাসকারী পারভীনের ভাবি হিমা বেগম ঘটনার পর টেলিফোনে দেশে আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানান। তার মরদেহ এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। স্বামী ও এক কন্যাসন্তানসহ পারভীন ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ডে চলে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন।

বাকৃবি ও কুড়িগ্রাম : ড. সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামে। পাঁচ বছর আগে বাকৃবি থেকে চাকরি ছেড়ে তিনি নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। ক্রাইস্টচার্চের ডিন্স অ্যাভিনিউয়ের আল নূর মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন তিনি। ড. সামাদের ছোট ভাই হাফেজ হাবিরুর রহমান জানান, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে ড. সামাদ সবার বড় ছিলেন। তাদের মেজ ভাই আসাদ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। অন্য দুই ভাই গ্রামের বাড়িতে থকেন। তিনি বলেন, তারা চান এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হোক এবং ড. সামাদের মরদেহ অবিলম্বে দেশে আনা হোক। এ হত্যাকাণ্ডে তারা অত্যন্ত মর্মাহত। তার গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, পাঁচ বছর আগে বাকৃবি থেকে চাকরি ছেড়ে ড. সামাদ নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন বলেন, সিটিজেনশিপ নিয়ে অধ্যাপক ড. সামাদ ছেলে ও স্ত্রীসহ নিউজিল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। তারেক রহমান ও তানভীর হাসান নামে তার দুই ছেলে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করেন এবং বড় ছেলে তোহা মাহমুদ ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।

নাগেশ্বরী : শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় বসবাসরত তোহা মোহাম্মদ মোবাইল ফোনে জানান, নিউজিল্যান্ডের হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মা তাকে জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তিনি হাসপাতালে ছুটে গেছেন। কিন্তু পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি। এছাড়া পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কিছুই প্রকাশ করবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই তিনি, তার মা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তার বাবা মৃত না জীবিত। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাদের আরও বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে ড. আবদুস সামাদের নিহতের খবরে মধুরহাইল্যা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। ড. সামাদের ছোট ভাই মতিয়ার রহমান বলেন, তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এ ঘটনা। এ ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×