রাকসু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ছাত্র সংগঠনগুলো

  রাজশাহী ব্যুরো ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভোট বর্জন করে পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি প্যানেলগুলো।

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন নেতৃত্ব তৈরির যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হতে শুরু করেছে। প্রভাব পড়ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক-বর্তমান ছাত্রনেতা ও শিক্ষকরা। তাদের দাবি, এরকম যদি রাকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও হয় তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সংগঠনগুলো নির্বাচন বর্জন করার সঙ্গে সঙ্গে রাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। পরের দিন একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ। ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে। ১৪ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া রাকসুর ১৯৭০ থেকে ১৯৭২, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৮৯ সালের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দেশে নানা অস্থিরতার অজুহাত তুলে বন্ধ করে দেয়া হয় রাকসু নির্বাচন।

ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া : বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী রাবি শাখার সভাপতি ফিদেল মনির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র চর্চা না হলে দেশের কোথাও গণতন্ত্র থাকবে না। জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্য করছি, একদলীয় নাটক হচ্ছে। এ নাটক রাকসুতে দেখতে চাই না। এ নাটক বন্ধ করতে ছাত্রদের বৃহত্তর ঐক্য গঠন করতে হবে। এ বিষয়ে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সংগঠক আবদুল মজিদ অন্তর বলেন, সব ছাত্রসংগঠনের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডাকসু নির্বাচনে যে ভুল-ত্রুটিগুলো হয়েছে সেটা যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ছাত্রসংগঠগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও রাকসু আন্দোলন মঞ্চের উপদেষ্টা মো. আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে একটা ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে সবাই জোর করে ক্ষমতা দখল করতে চায়। এখানে মতপ্রকাশ বলে কিছু থাকে না। রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বলব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি চায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আর তাহলেই তা সম্ভব।’ এ বিষয়ে রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না যুগান্তরকে বলেন, এখন বিচ্ছিন্ন করে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে সেটার বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু তা প্রশ্নাতীত। তবে এ ধারা পরিবর্তন হতে পারে যদি ভোটাধিকারের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে এবং যারা এ ধরনের বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে তাদের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলা।’

চলতি বছর জানুয়ারিতে রাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. লুৎফর রহমানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেয় ১২টি রাজনৈতিক এবং ১০টির মতো অরাজনৈতিক সংগঠন। এরই মধ্যে ১০টি সংগঠনের সঙ্গে সংলাপে বসা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি সংগঠনগুলোর সঙ্গেও বসা হবে বলে জানান অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে সব সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×