ডাকসুর পুনর্নির্বাচন দাবি

ভিসির সাক্ষাৎ মিলল না ৫ ঘণ্টার অবস্থানেও

ক্লাস বর্জনের ঘোষণায় প্রভাব পড়েনি

  ঢাবি প্রতিনিধি ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিলসহ ৫ দফা দাবিতে ভিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময়ের মধ্যে ভিসির সাক্ষাৎ না পেয়ে তারা অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে পাঁচটি প্যানেল সোমবার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিলেও এর তেমন প্রভাব পড়েনি।

আন্দোলনকারীরা ঢাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল, পুনর্নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভিসির পদত্যাগ, প্রার্থী ও ভোটারদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানান।

সোমবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১২টার দিকে ভোট বর্জনকারী প্যানেলগুলোর নেতাকর্মীরা রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে লাইব্রেরি, কলা ভবন, ভিসির বাসভবন হয়ে তার কার্যালয়ের সামনে যান আন্দোলনকারীরা। তারা ভিসি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে চান।

এ সময় কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তারা গেটের বাইরে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির জানান, ভিসি আমাদের সঙ্গে কথা না বললে আমরা অবস্থান ছাড়ব না।

ভোট বর্জনকারী প্যানেলগুলো হল- কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্রজোট, ছাত্র ফেডারেশন, স্বতন্ত্র জোট ও স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ। তবে এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকসুর নতুন ভিপি নূরুল হক নূর ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট সমর্থিত ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীকে দেখা যায়নি। এর আগে ডাকসুর ভিপি পদে স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান বলেন, আমরা যখনই ভিসির কাছে যাই, তিনি শুধু বলেন লিখিত অভিযোগ দাও। নির্বাচনের আগেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। নির্বাচনের পরও অনেক লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এই ভিসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি। ভিসি আমাদের দাবি মানতে বাধ্য।

উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, আমাদের অবস্থান চলবে। আমাদের নেতারা কথা বলবেন। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের। এ দায় তাদের নিতেই হবে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা দেশের সামনে লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। কাজেই দায় নিয়ে তাদের পদ থেকে সরে যেতে হবে।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সমর্থিত ডাকসুর জিএস প্রার্থী মো. রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির পরও অনেক ভোট পড়ায় দুটি পদে আমাদের হারাতে পারেনি। মেয়েদের হলগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে আমি জিতেছি, কারণ সেখানে ছাত্রীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ছেলেদের হলগুলো ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, এ নির্বাচন অসম্পূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ।

স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের জিএস প্রার্থী এআরএম আসিফুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় এ নির্বাচন হয়েছে। আমরা বারবার মিডিয়াকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার কথা বললেও তা করা হয়নি। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এখন তারা প্রমাণ দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু প্রমাণ দেয়ার রাস্তা আগেই বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়েও ভিসির দেখা না পেয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. রাশেদ খান বলেন, আমরা যে পাঁচটি প্যানেল আছি, তার সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।

নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ দিলেন অনশনকারীরা : এদিকে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে তুলে দিয়েছেন আমরণ অনশনকারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে ভিসির কাছে এসব প্রমাণ তুলে ধরেন। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ভিসি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন রবিউল ইসলাম, রাফিয়া তামান্না, শুয়েব মাহমুদ অনন্ত, তাওহিদ তানজিম ও মাইন উদ্দিন। এর আগে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ফের ভোটের দাবিতে ১১ মার্চ রাজু ভাস্কর্যে অনশনে বসেন ৮ শিক্ষার্থী। ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রোভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ তাদের অনশন ভাঙান। সেদিন ১৮ মার্চ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের কথা বলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ভিসির কাছে প্রমাণ দিতে এলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাইন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ভিসিকে বিভিন্ন অনিয়মের ছবি, ভিডিও প্রমাণ দিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন বিষয়গুলো দেখবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ডাকসু নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×