রাজশাহীতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম

সেবা শুধু কাগজে-কলমে

নেই পর্যাপ্ত জনবল। পরিচালনা কমিটিরও খবর নেই। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকরাও গ্রামে যাচ্ছেন না

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিকল্পনা

রাজশাহীতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম বেহাল হয়ে পড়েছে। জেলার ৪৫ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (এফডব্লিউসি) নেই পর্যাপ্ত জনবল। পরিচালনা কমিটিরও খবর নেই। ফলে সেবা নিতে গিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককেই।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকরাও গ্রামে যাচ্ছেন না। ফলে পরিবার পরিকল্পনা ও সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে জেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, জেলায় তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে চলছে। গত এক দশকে সব সূচকেই তাদের উন্নতি হয়েছে। জনবল সংকট সত্ত্বেও সেবার পরিধি বেড়েছে।

রাজশাহী জেলায় মোট জনসংখ্যা ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৩ জন। জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের হিসাব মতে, গত বছরের ডিসেম্বরে জেলায় সক্ষম দম্পতি ছিল ৬ লাখ ১৩ হাজার ২১০ জন। এদের ৫ লাখ ৪ হাজার ২০৫ জন রয়েছেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবার আওতায়। শতকরা হিসাবে যা ৮২ শতাংশের ওপরে। তবে এ হিসাব শুধু কাগজে-কলমে। বাস্তবে পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম মাঠে নেই বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, রাজশাহীর ৭২টি ইউনিয়নের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ৪৫টিতে। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের সেবা ভালোভাবেই চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট দফতরের। একেবারেই বেহাল সাতটি কেন্দ্রের সেবা। ৩০টিতে সেবা কার্যক্রম চলছে শুধু কাগজে-কলমে।

এর বাইরেও জেলায় ৩০টি মান উন্নীত (প্রসবসেবা) পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও ২৭টি সার্বক্ষণিক প্রসবসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছে পরিবার পরিকল্পনা দফতর। কিন্তু পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ও আয়ার পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। ভুক্তভোগীরা আরও বলছেন, গর্ভ ও প্রসবকালীন কোনো সেবাই পাচ্ছেন না তারা। অনেক কেন্দ্রে কর্মী না থাকায় পরামর্শ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

পরিবার পরিকল্পনা দফতরের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, তাদের সেবা কার্যক্রমের আওতায় এসেছে অধিকাংশ গ্রামীণ লোকজন। এছাড়া শহর এলাকায় নিু আয়ের লোকজনও এসেছে সেবার আওতায়। চাহিদামাফিক বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রক সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তাদের মাঝে। কিন্তু জনবল সংকট ও পরিচালনা কমিটির নিষ্ক্রিয়তায় মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের কথা থাকলেও গ্রামের লোকজনকে নিজের টাকায় বাইরে থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পণ্য কিনে নিতে হয়।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতরের মতে, প্রায় ১ হাজার ৮০০ দম্পতি নিয়ে জেলায় কাজ করছেন মাত্র একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী। অনুমোদিত ৪৩২ পদের বিপরীতে এ জেলায় কর্মরত আছেন ৩৯৪ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী। ১২৮টি পরিবার কল্যাণ সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকের পদ খালি রয়েছে ২০টি। অনুমোদিত ৯৭ পদের বিপরীতে এ পদে কর্মরত আছেন ৭৭ জন। ৭৬ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৫ জন। ৪০ পদের বিপরীতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছেন ৩৮ জন।

বিভিন্ন প্রশাসনিক পদও শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় পরিবার কল্যাণ সেবা কেন্দ্রের অবকাঠামো সংকটও রয়েছে ব্যাপক। জরাজীর্ণ ২০টি এফডব্লিউসি কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আর সংস্কারের প্রয়োজন ৮টি কেন্দ্রের।

এরই মধ্যে ৬টি এফডব্লিউসি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কার কাজ চলছে আরও চারটির। অধিকাংশ ইউনিটের সীমানাপ্রচীর না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

জেলার ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসিম আখতার বলেন, ২০০৯ সালে জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০০৮ সালে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশে।

তবে ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণকারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ শতাংশে। অন্যান্য সূচকেও গত এক দশকে উন্নতি হয়েছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের। তবে বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে নেই কোনো তথ্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×