সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে উত্তরখানে হৃদয় হত্যা

কাশ্মীরি নামে ফেসবুক আইডিতে খুনের ক্লু

তিন মাস ধরে হুমকি-পাল্টা হুমকি * হৃদয় ছিল উত্তরার আলোচিত আদনান হত্যার আসামি ছোটন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য

  নুরুল আমিন ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাশ্মীরি নামে ফেসবুক আইডিতে খুনের ক্লু

রাজধানীর উত্তরখানে কিশোর কামরুল হাসান হৃদয় হত্যার ক্লু পাওয়া গেছে। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে কাশ্মীরি নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিপক্ষ গ্যাংস্টার গ্রুপ হৃদয়কে হত্যার হুমকি দিয়েছিল।

পুলিশ ওই ফেসবুক আইডির কথোপকথন বিশ্লেষণ করে হৃদয় খুনের সঙ্গে জড়িত গ্যাংস্টার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করেছে। হৃদয় ছিল উত্তরার আলোচিত নবম শ্রেণীর ছাত্র আদনান কবির হত্যার আসামি ছোটন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, কাশ্মীরি নামের একটি ফেসবুক আইডি শনাক্ত করেছি। কিশোর গ্যাংস্টার গ্রুপের ওই আইডিতে তিন মাস ধরে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে হুমকি দিয়ে আসছিল। ওই আইডির কথোপকথন বিশ্লেষণ করে খুনি শনাক্ত হয়েছে। খুনের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। আর মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হৃদয়ের বাবা ছেলের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। ফিরে এসে তিনি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করবেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কে কাকে ভাই বলে ডাকবে। কারা কোন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করবে এ নিয়ে ফেসুবকে দুই গ্রুপের মধ্যে আক্রমণাত্মক কথোপকথন চলছিল। বৃহস্পতিবার রাজাবাড়ী এলাকায় দুই গ্রুপের সদস্যরা মুখোমুখি হলে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের ওপর হামলা করে। প্রতি গ্রুপেই প্রায় ৬-৭ জন কিশোর ছিল। এ সময় গ্যাংস্টার গ্রুপের ছুরিকাঘাতে খুন হয় হৃদয়।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কামরুল হাসান হৃদয়কে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবার নাম কামাল হোসেন। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী শ্যামবাগ থানার ইলিয়াছপুর গ্রামে। হৃদয় স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র আদনান কবির খুন হয়। এ ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার তৎপর কিশোর গ্যাং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। গত দুই বছরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে অন্তত এক ডজন খুনের ঘটনা ঘটেছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোরদের। প্রভাবশালীদের শেল্টারে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের কৌশলে যুক্ত করা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এসব কিশোর অপরাধীর বিষয়ে এখনই অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীসহ সব মহলকে সচেতন হতে হবে। না হলে নতুন এ প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে দুই শতাধিকের মতো কিশোর গ্রুপ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজধানীর নামিদামি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অছাত্র ও গরিবের সন্তানও রয়েছে এসব গ্রুপে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব কিশোর অপরাধীদের নজরদারি বা আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×