স্মরণসভায় বক্তারা

শাহ আলমগীর ছিলেন সত্য-নিষ্ঠার প্রতীক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) প্রয়াত মহাপরিচালক শাহ আলমগীর ছিলেন সত্য-নিষ্ঠার প্রতীক, উচ্চ মাপের সাংবাদিক ও দক্ষ প্রশাসক। সদালাপী ও কর্মপ্রেম ছিল তার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় গুণ। জীবন সায়াহ্নে এসেও সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। পিআইবিকে অর্থনৈতিকভাবে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। এভাবেই শাহ আলমগীরের নানা অবদানের কথা তুলে ধরেন সহকর্মী, সহযোদ্ধা ও বন্ধুরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার স্মরণসভার আয়োজন করে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র (বিজেসি)। অনুষ্ঠানে বন্ধু শাহ আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রধান তথ্য কমিশনার মর্তুজা আহমেদ, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। ব্যক্তিগত জীবনের টুকরো টুকরো স্মৃতি তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে অমন্ত্রিত শাহ আলমগীরের সহধর্মিণী ফৌজিয়া বেগম মায়া।

সাইফুল আলম বলেন, হাতে হাত ধরে ৪৫ বছরের সম্পর্ক। চিঠি লেখালিখির ২ বছর যোগ করলে ৪৭ বছর সম্পর্কে শাহ আলমগীরকে দেখেছি, সংসার, বন্ধু-বান্ধব, ভাইবোনের প্রতি সব দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে মানুষ যেভাবে ভালোবেসেছে তা নির্ণয় করা যাবে না। আজকের সমাজে অর্থ, শক্তির বিনিময়ে ভালোবাসা কিনতে পাওয়া যায়। শাহ আলমগীর মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটা মেকি ছিল না। এর চেয়ে বড় সফল জীবন আর হতে পারে না।

মর্তুজা আহমেদ বলেন, শাহ আলমগীর শুধু বড় মাপের সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি দক্ষ প্রশাসকও ছিলেন। গণমাধ্যমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার অবাধ বিচরণ ছিল। তার নেতৃত্বে পিআইবি স্বর্ণযুগ পার করেছে। ভবন নির্মাণ, মাস্টার্স কোর্স চালু ও পিআইবি আইনসহ অনেক কাজ করেছেন। তথ্য সচিব থাকার সময় তাকে নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ করার কথা ছিল। মৃত্যুর ৩ দিন আগে তাকে সিএমএইচে দেখতে গেলে তিনি ওই ওয়ার্কশপের খোঁজ নেন। এতেই তার কর্তব্যনিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া যায়। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সাংবাদিকতার বাইরেও শাহ আলমগীর রাজনৈতিক অ্যাকটিভিস্ট ছিল। ’৭০-এর দশকে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার স্মৃতিকথা লেখনি আকারে প্রকাশ করলে পরবর্তী প্রজন্ম লাভবান হবে। আবুল কালাম আজাদ বলেন, শাহ আলমগীর কখনও কারও বিরুদ্ধে ক্ষোভ লালন করেননি, কারও সঙ্গে কড়া কথা বলেননি। কারও কথায় কষ্ট পেলেও তা নিয়ে প্রতিবাদ করেননি। বয়সে ৮ বছরের ব্যবধান থাকলেও আমার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সব সময় সাংবাদিকদের উন্নয়নে চিন্তা-ভাবনা করতেন। সোহরাব হাসান বলেন, এখনকার সময়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যারা নেতা হয়ে যান, তাদের পরে কর্মীদের আর খোঁজ রাখতে দেখা যায় না। শাহ আলমগীর এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন। তিনি নেতা হয়েও কর্মী ছিলেন। সবাই তার কাছে গিয়ে সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারতেন। তার মতো পরোপকারী ও সহমর্মী মানুষ সাংবাদিকতা পেশায় বেশি নেই।

বিজেসির চেয়ারম্যান ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজওয়ানুল হকের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সদস্য সচিব ও একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা প্রধান শাকিল আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিজেসির ট্রাস্টি রাশেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, সমকালের যুগ্ম-সম্পাদক অজয় দাশ গুপ্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহ আলমগীর। ২০১৩ সালের ৭ জুলাই পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর পত্রিকা সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ, সংবাদ ও প্রথম আলোতে কাজ করেন। এছাড়া চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×