খুলনায় ট্রাফিক আইন শুধু মোটরসাইকেলে

নিয়ম ভেঙে চলছে বাস ট্রাক মাহেন্দ্র ও ইজিবাইক

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোটরসাইকেল

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকায় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নগরীর মধ্যে নির্দিষ্ট গতিসীমার ঊর্ধ্বে চলছে মাহেন্দ্র ও সিএনজি অটোরিকশা।

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের কোনো অনুমতি না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে নগরীর অলিগলিতে চলাচল করছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এ যান। এর ওপর বালি বোঝাই ট্রাক বাতাসে বালি উড়িয়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে চলাচল করেছে। এসব কিছুর দিকে নজর নেই খুলনার ট্রাফিক পুলিশের। যার ফলে প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও মার্কেটের সামনেই ঘটছে দুর্ঘটনা। হচ্ছে প্রাণহানি।

ট্রাফিক পুলিশের নজর শুধু মোটরসাইকেল চালকের ওপর। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে একাধিক সার্জেন্ট ও কনস্টেবল কর্মদিবস পার করেন মোটরসাইকেল আটকে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে। এমনটা হরহামেশাই ঘটে থাকে। খুলনা নগরবাসী এমনটাই প্রত্যক্ষ করে আসছেন যে- এ শহরে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন বা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়াকড়ির অর্থ যেন একমাত্র মোটরসাইকেল আটক করে কাগজপত্র পরীক্ষা করা! অথচ নাবালক চালক ইজিবাইক চালাচ্ছে, সেটি তারা বন্ধ করছে না। মাহেন্দ্র ও সিএনজি অটোরিকশা নগরীর মধ্যে ঘণ্টায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকার কথা থাকলেও সেটি অমান্য করা হচ্ছে। বেশির ভাগ মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তারপরও তাদের আটক করে মামলা করা হচ্ছে না। খুলনা থেকে ঢাকাগামী পরিবহন, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, লরি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচল বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও সেটিও অজ্ঞাত কারণে মানা হচ্ছে না। এমনকি রাস্তার পাশেই অনেক ক্ষেত্রে ভারি যানবাহন পার্কিং করা হচ্ছে। এসব চিত্র প্রতিদিন দিনের বেলায় নগরবাসীর চোখে পড়লেও ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম ও পদক্ষেপ নিয়ে হতাশার শেষ নেই।

বর্তমান কেএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় নগরীতে মোটরসাইকেল চালকদের শতভাগ হেলমেট ও কাগজপত্র রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়। এরপর থেকেই মোটরসাইকেল চালকদের ওপর চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু এ সুযোগে অন্য গাড়ির দিকে নজরই রাখছে না ট্রাফিক বিভাগ। এরই মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের জনবলের বড় একটা অংশ ভোটের ডিউটির জন্য আশপাশের জেলায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মাহেন্দ্র ও অটোরিকশা চালকের কোনো ক্রটি পেলে আটক করা হয়। সেক্ষেত্রে তাদের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বড় ধরনের আন্দোলনের হুমকি আসায় বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। ট্রাক, লরি, বাসগুলোর ক্ষেত্রেও বিশেষ বিশেষ কারণে ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু এ বিশেষ ছাড় দেয়ার পেছনেও অনেক কারণ আছে। যা ওপেন সিক্রেট কিন্তু প্রমাণ করা যায় না। সেটি হল যানবাহনের সঙ্গে মাসিক অর্থ বিনিময়ের।

একাধিক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, শুধু ট্রাফিক পুলিশ নয়, স্বয়ং পুলিশ কমিশনারও মোটরসাইকেল চালকদের বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। যার কারণেই নগরীতে বেশির ভাগ মোটরসাইকেল চালকরা হেলমেট ব্যবহারসহ সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখেন। এ বিষয়ে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ঠিক এর বিপরীত বিষয় হল নগরীতে বেপরোয়া মাহেন্দ্র, অবৈধ ইজিবাইক চলাচলে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি নগরীর মধ্যে বাস, ট্রাক যে গতিতে চলাচল করে তাতে মনে হয় নগরীর রাস্তাগুলো হাইওয়ের সড়ক। এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ দরকার। তারা বলেন, মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রেও যদি মাসিক বিনিময় চুক্তি থাকত তাহলে হয়তো এত চাপ আসত না।

কেসিসির লাইসেন্স শাখার সূত্র জানায়, নগরীতে শৃঙ্খলভাবে ইজিবাইক চলাচলের জন্য কিছু অনুমোদন দেয়া হবে। এ কারণে ইতিমধ্যে ৮ হাজার ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে আবেদন নেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি অংশ নগরীতে বৈধভাবে চলবে। মাহেন্দ্র ও অটোরিকশা ইউনিয়নের সূত্র জানায়, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে চালানো হয়। অনেক সময় যাত্রীদের কারণেই গাড়ি দ্রুতগতিতে চালানো হয়। গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স শতভাগ না থাকলেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

খুলনার ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মো. সাইফুল হক যুগান্তরকে বলেন, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীতে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার নির্দেশনা আছে। তবে রাতের বেলায় নগরীতে শুধু এসি পরিবহনগুলো চলাচল করার জন্য বলা হয়েছে। যার গতিসীমা থাকবে নিয়ন্ত্রিত। তিনি আরও বলেন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পিড গান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকলেও খুব দ্রুত এটি আবার সচল হবে। এছাড়া অন্য বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। খুলনা বিআরটিএর উপপরিচালক মো. জিয়াউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার সময় সব ধরনের গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×