হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা

শাবি ছাত্র রাজীবের হাত মাথা ও পিঠে ৭০ সেলাই

  শাবি প্রতিনিধি ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ধু বা জুনিয়রকে বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও কেউই ছাড়েনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব সরকারকে। উল্টো হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও পিঠে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় এখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাথা-পিঠ ও হাতে ৭০টির মতো সেলাই নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রাজীব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক। শনিবার প্রধান ফটকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপায় ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে এ নিয়ে রোববার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে রাজীব সরকার নিজের ওপর হামলার বিবরণ দিয়ে দোষীদের শাস্তি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, শনিবার টিউশনির উদ্দেশে হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে যান রাজীব সরকার। মোবাইলে রিচার্জ করে গেটের বিপরীত দিকে ঈমানিয়া ভ্যারাইটিজ স্টোরের সামনে দাঁড়ালে তিনটি মোটরবাইক গেট থেকে বের হয়ে সোজা তার সামনে এসে থামে। তিনটি মোটরসাইকেলে মোট নয় আরোহী ছিল। আরোহীরা মোটরসাইকেল থেকে নেমে এলোপাতাড়ি রাজীবের ওপর হামলা করে। প্রথমে মুজাহিদুল ইসলাম রিশাদ (ইংরেজি বিভাগ, ২০১৬-১৭) তার পিঠে দা দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আইপিই বিভাগের শোভন, আমিনুল ইসলাম (সমুদ্র বিজ্ঞান, ২০১৬-১৭), আবদুল বারী সজীব (লোকপ্রশাসন ২০১৪-১৫) ও বাংলা বিভাগের কাওসার আহমেদ সোহাগ এলোপাতাড়ি তার গায়ে, হাতে, পায়ে ও পিঠে রড দিয়ে মারতে থাকে। উপায়ান্তর না দেখে ঈমানিয়া ভেরাইটিজ স্টোর ও জননী এন্টারপ্রাইজের মধ্যবর্তী ফাঁকে ঢুকে আটকা পড়েন রাজীব। তখন লোক প্রশাসন বিভাগের সুমন মিয়া ও সুজন বৈষ্ণব রাজীবের মাথায় দা দিয়ে কোপায়।

রাজীব অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সে সময় আমি তাদের অনুরোধ করলে তারা আরও হিংস হয়ে ওঠে। সুমনকে আমি বন্ধু বলে অনুরোধ করলে সে আরও আঘাত করতে থাকে। এরপর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইফতেখার আহমেদ রানা ও অজ্ঞাতনামা একজন লাঠি দিয়ে সজোরে আমার গায়ে গুঁতো দিতে থাকে। আমি হাত দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হই। আমাকে ফেলে রানা ও সে অন্যদিকে চলে গেলে ভাবি তারা চলে গেছে। আমি একটু বের হয়ে আসলে রিশাদ পুনরায় আমাকে মারতে আসে। আমি তখন রিশাদকে বলি যে, ‘আমি তোর বড় ভাই। আমাকে আর মারিস না। আমি তো মরে যাব।’ তখন উত্তরে সে বলে, ‘তোকে মারতেই তো এসেছি।’ রিশাদ তখন রড দিয়ে ১২-১৪টি আঘাত করে। আমি উপুড় হয়ে পড়ে গেলে তারা আমাকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি বের হয়ে ঈমানিয়া স্টোরের সামনে এসে পড়ে যাই। সেখানে অনেকক্ষণ পড়ে থাকার পর আশপাশের মানুষজনের সহায়তায় আমি হাসপাতালে পৌঁছাই। জানা যায়, এরা সবাই শাবি ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনের অনুসারী।

এদিকে রাজীব সরকারের ওপর হামলার ঘটনা ও হামলাকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন-পরবর্তী এক সমাবেশে রাজীব সরকারের ওপর হামলায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানান তারা। বাংলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান মিলনের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মী রণদা প্রসাদ তালুকদার, রুবাইয়াত, আসহাব চৌধুরী প্রমুখ।

হামলাকারীরা শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিভাগের নেতাকর্মী হলেও কারও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তিনি ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর পেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্যদিকে সহকারী প্রক্টর জাহিদ হাসান জানান, হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি কিংবা এ সংক্রান্ত অগ্রগতির বিষয়ে কোনো ধারণা নেই তার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×