সেমিনারে জাতিসংঘের কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারকে চাপে রাখা

২৫ মার্চ বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে সহায়তা করবে জাতিসংঘ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা অমানবিক। এটি কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। তবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ও নিরাপত্তার ব্যাপারে মিয়ানমার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দেশটিকে চাপে রাখা উচিত।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে রোববার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যাবিষয়ক এক সেমিনারে জাতিসংঘের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক উপদেষ্টা আদামা দিয়েং এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল, তার স্বীকৃতি আদায়ে সহায়তা করবে জাতিসংঘ। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মফিদুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে স্বীকৃতি না দেয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করার বিষয়টি তুলে ধরে জাতিসংঘের কর্মকর্তা বলেন, এ সমস্যা বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে। সে প্রচেষ্টা আমরা নিয়েছি। জাতিসংঘের গণহত্যাবিষয়ক এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা চাই ওই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচার হোক। রোহিঙ্গারা সেখানে (রাখাইন) ফিরে যাক। সেখানে একটা শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠুক।

আদামান দিয়েং বলেন, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা গণহত্যা হয়েছে। এটা ঠেকাতে না পারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, কেউ কখনও কল্পনাও করেনি মাত্র ১০০ দিনে ১০ লাখ লোক মারা যাবে। তার মতে, ’৭১ সালে গণহত্যা হয়েছে, তার স্বীকৃতি আদায়ে প্রচারণা বাড়াতে হবে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেয়া হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ১৪টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মতে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল।

ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ঝুঁকিতে। দশ বছরে শান্তিরক্ষা মিশন ও মানবিক সহায়তায় ২৩৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে আরও কাজ করতে হবে। তবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ করছে তার সরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর ঘটানো রক্তাক্ত ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা ও ২ লাখ মা-বোনকে ধর্ষণ করে। এ জঘন্য অপরাধ প্রকৃতপক্ষে একটি গণহত্যা এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন। বর্তমান সরকার ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এই বিষয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃতির জন্য জোরাল চেষ্টা চালাচ্ছে। মফিদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকের ওপর পাকিন্তানি সেনাবাহিনীর হামলার ঘটনা বর্বরোচিত। জাতিসংঘ থেকে এটি গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে হবে। এ সময় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি তুলে ধরার পরামর্শ দেয়া হয়।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ১৯৭১ সালে নেগোসিয়েশনের নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে পাকিস্তান সরকার। তার মতে, ওই সময়ে যে গণহত্যা হয়েছে, তা পৃথিবীর মধ্যে নিকৃষ্টতম। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় তারা মানুষকে নির্যাতন করেছে, তাদের বিচারে ১৯৭৩ সালে আইন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই আইন বাতিল করে। এরপর তার স্ত্রী খালেদা চিহ্নিত দুই যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন।

মেজর জেনারেল আবদুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের পর স্বাধীনতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বহুবার। এটি জাতির জন্য দুঃখজনক। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে একাত্তরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু প্রায় ৫০ বছরেও তার স্বীকৃতি মেলেনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×