রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতায় টিকতে ধর্ম ব্যবহার করছে

ড. কামাল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক গোষ্ঠী ধর্মের মতো স্পর্শকাতর বিষয় ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ও নিহতদের প্রতি শোক ও সংহতি প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ধর্মকে ব্যবহার করা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছে। বর্তমানে ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার অর্জনগুলো ধরে রাখতে সম্প্রীতির মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যকে বিনষ্ট করা সংবিধানসম্মত নয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করতে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে।’

ড. কামাল আরও বলেন, ‘সংবিধানেও আছে ধর্মকে অপব্যবহার করা যাবে না। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সব ধর্মের সঙ্গে সম্প্রীতি গড়ে তোলা। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই সব মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে। ধর্মের নামে বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘একটা জাতি কিভাবে এগোবে? বিদ্বেষ, ঘৃণা, বিভাজন করে কোনো জাতি অগ্রসর হয় না। আমাদের দেশে দেখছি, যখনই কোনো ঘটনা ঘটছে, আমরা একে অপরের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভাজন ছড়াই। আমরা একে অপরকে খুনি, সন্ত্রাসী, এর দালাল ওর দালাল আখ্যা দিচ্ছি। এই ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভাজনের বক্তব্য থেকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন রাজনীতিটা কি হওয়া উচিত।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে মসজিদে ঘটনা না ঘটলেও গুলশানের হলি আর্টিজনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা কিভাবে হ্যান্ডেল করেছি? সামরিক বাহিনীকে ডেকে পাঠিয়েছি, যাদের চার ঘণ্টা সময় লেগেছে আসতে। এই সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা পুলিশ- তারা কম মানুষ মারেনি। জীবিত কাউকে ধরেনি। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে জীবিত ধরা হয়েছে। আমাদের এখানে জঙ্গি শোনার সঙ্গে সঙ্গে জিরো টলারেন্স। জিরো টলারেন্সের মানে বিচারবহির্ভূত হত্যা। আমাদের নিউজিল্যান্ডের থেকে শেখার আছে।’

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে নানা ধর্মের, নানা মতাদর্শের লোক আছে। বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে না দিয়ে আমাদের জাসিন্দার কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। মতবিরোধ থাকবে, সমালোচনা থাকবে কিন্তু সবাইকে এক করে, বিদ্বেষ ঘৃণা না ছড়িয়ে, রাজনীতিবিদদের কাছে আহ্বান থাকবে যে, যেন আমরা ভালো জিনিসটা নিই।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপ্রিয় এবং মানবতাবাদী। এটিকে মনে রেখেই বাংলাদেশের সরকার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে তা আমার কাছে মনে হয়নি। মানবতা কি দেশে আছে? গুম, খুন, ক্রসফায়ার তো চলছেই। আর সবচেয়ে নির্দয় ঘটনা এখন রাস্তাঘাটে, বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে ফেলে হত্যা করা হচ্ছে। দুটি বাসের চাপায় পথচারী মারা যাচ্ছে। তারপরও বাংলাদেশে মানবতা কি আছে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে যত আলোচনা সভা করবেন, যত শোক প্রস্তাব রাখবেন, সবাই তাতে মানবতার কথা ও আদর্শের মডেল বলবে। কিন্তু আমাদের দেশে মানবতা চাষ করা হয় না, আমাদের দেশে হিংসার চাষ করা হয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিউজিল্যান্ডে যে ব্যক্তি হামলা চালিয়ে মুসল্লিদের হত্যা ও আহত করেছেন তিনি ওই দেশের নাগরিক নন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বা অন্যরা এটা এড়ানোর চেষ্টা করেননি। মানবিক মূল্যবোধ থেকে তিনি এটাকে নিজের বিষয় বলে নিয়েছেন। তিনি বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আমরা এক।’ যারা সে দেশের নাগরিক এবং অভিবাসী তাদের সবাইকে তিনি আপন করে নিয়েছেন। যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। যে শুক্রবারে ঘটনা ঘটেছে তার পরের শুক্রবারে টিভি-রেডিওতে নামাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য আজান প্রচার করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়–য়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×