নানা কর্মসূচিতে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, চিত্রপ্রদর্শনী, মোমবাতি প্রজ্বালন, মশাল প্রজ্বালন, ভাস্কর্য প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাটক ও কবিতা পাঠ, দোয়া মাহফিল এবং বিশেষ প্রার্থনা। দিবসটিতে ব্ল্যাক আউট কর্মসূচি পালন করা হয়। রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট সারা দেশে বাতি নিভিয়ে রাখা হয়। আর এর মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় বিভীষিকাময় সেই কালরাতে জীবন উৎসর্গকারীদের।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ রাজধানীতে খুন, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠে। এই অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’। ওই রাত থেকে শুরু হওয়া হত্যাযজ্ঞ ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ করার পূর্ব পর্যন্ত চলে। ৯ মাসে পাক বাহিনী এ দেশীয় তাদের দোসর আলবদর, রাজাকার ও আলশামসের সহযোগিতায় ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করে।

বিকালে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বিকাল ৪টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের পর ‘শিখা অনির্বাণে’ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১৪ দলের নেতারা। সন্ধ্যায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধারা মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। এ কর্মসূচির আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। গণহত্যা দিবস স্মরণে সন্ধ্যার পর থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সর্বস্তরের শিল্পীর অংশগ্রহণে পথচিত্রাঙ্কন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র, গণসঙ্গীত ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করে সিফাড, ইউডা-কোডা-সোডা।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে মোমবাতি প্রজ্বালন, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, নাটক পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি, মশাল প্রজ্বালন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্মৃতি চিরন্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মন্দির, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদদের স্মরণে রমনা কালীমন্দিরে শহীদ পরিবারগুলোর উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রার্থনা সভা। এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×