নাগরিক সংলাপে বক্তারা

সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলায় জরুরি মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম বলেছেন, সহিংস উগ্রবাদ দূর করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন পরিবারভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ ও সর্বশেষ রাষ্ট্রীয়ভাবে উগ্রবাদবিরোধী মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। উগ্রবাদ চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় না দিলে কোনো দেশেই তথা বিশ্বে উগ্রবাদ শব্দটিই আর থাকবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এই অবস্থানটি তৈরি হয় অথবা এই অবস্থানের বিপরীতে যদি দাঁড়াতে হয় তাহলে একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান তৈরি করতে হবে। তবে সেটা ধর্মভিত্তিক নয়, ধনী-গরিবভিত্তিক নয়, শিক্ষিত ও অশিক্ষিতভিত্তিক নয়, সাদা কিংবা কালোভিত্তিক নয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সোমবার ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র সহযোগিতায় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘তারুণ্য রুখবে সহিংস উগ্রবাদ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

সাইফুল আলম বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সহিংসতা কোনো ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা অনেক সময় ধর্মীয় সহিংস উগ্রবাদের কথা বলি। কিন্তু প্রত্যক্ষ করলে দেখা যাবে, শুধু ধর্মীয় সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদ সংগঠিত হচ্ছে তেমনটি নয়। কারণ পরিসংখ্যান আমাদের সেটি জানান দেয় না। আবার অনেক সময় আমরা বলি বেকারত্ব, হতাশাগ্রস্ত মানুষরা সহিংস উগ্রবাদে জড়ায়। কিন্তু পরিসংখ্যানে সেটার ব্যত্যয় দেখা যায়। আবার বলা হয়, অশিক্ষা, কুশিক্ষা উগ্রবাদের জন্য দায়ী। সেখানে আমরা দেখি একেবারেই উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, সামজিক অবস্থান থেকে আসা ব্যক্তিও উগ্রবাদে জড়াচ্ছে।

ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, আমরা দেখি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ বছরে যতগুলো সহিংস উগ্রবাদী হামলা হল তার মাত্র ১৩ শতাংশ মুসলমানরা করেছে। বাকি ৮৭ ভাগ হামলা করেছে অমুসলিমরা। গুলশানের হলি আর্টিজান হামলায় দেখবেন উচ্চ বা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের কতজন এর সঙ্গে জড়িত। কাজেই সহিংস উগ্রবাদকে কোনো একটি ছকে সরলীকরণ করা যাবে না। তবে এটা সত্য, কখনও কখনও ধর্মভিত্তিক এককেন্দ্রিক চেতনার আমরা সহিংস উগ্রবাদের শিকার হই।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বাঙালিদের নেই। এই বাঙালি সত্তাকে সব সময় জাগ্রত রাখতে হবে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনের সাদৃশ্য রয়েছে। সে অনুসারে এই অপরূপ প্রকৃতির দেশে বাঙালি সত্তাকে সমন্বিত করলেই আমাদের সংবিধান সার্থক হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলায় আমরা তৃপ্ত নই, তৃপ্ত হওয়ার বিষয়ও নয়। সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় দিবসের আগেই উগ্রবাদীদের অপকর্মগুলো ঘটে। তাই আমরা ঢাকা শহরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের সামর্থ্যকে সম্পূর্ণরূপে প্রদর্শন অর্থ উগ্রবাদীদের মেসেজ দেয়া। আমাদের সামর্থ্যরে জানান দিতেই সোয়াতসহ বিভিন্ন বাহিনীকে নামানো হয়েছে।

সংলাপে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ ব্রাদার চন্দন বেনেডিক্ট গোমেজ বলেন, আমরা আলোকিত মানুষ হতে শিখাই জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার মাধ্যমে। আমাদের মূলমন্ত্র একটি সুন্দর হৃদয় সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। ধর্ম আমাদের শেখায় আরও ভালো মানুষ হতে।

বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় বলেন, ধর্মটা রাজনীতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব কমে যাচ্ছে। এ কারণে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে এ উগ্রবাদ দমন করতে হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সচেষ্ট হতে হবে।

রামকৃষ্ণ মিশনের সহকারী সম্পাদক স্বামী সেবানন্দ বলেন, সব ধর্মই সত্য। এটা সবাই স্বীকার করে নিলে হানাহানি বন্ধ হবে। অর্থাৎ সব ধর্মের লোকদের সম্মান করতে হবে। উগ্রবাদ একটি রোগমাত্র।

তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘটনা প্রমাণ করেছে মুসলিমরা শান্তিপ্রিয়। তাছাড়া মনে রাখতে হবে নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ নাগরিক অধিকার ও মানুষের সম্মান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। আমি সৌদি আরবে গিয়ে এতটা সম্মান পাইনি, এসব দেশে গিয়ে যতটা সম্মান পেয়েছি। আমাদের দেশে নৈতিকতা শেখার জন্য উপযুক্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। যে কারণে শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের আনন্দদায়ক পরিবেশ উপহার দিতে হবে, তাদের ভালো মানসিকতায় পরিবর্তিত করতে হবে। তাহলেই সহিংস উগ্রবাদ এড়িয়ে চলা সম্ভব।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে নাগরিক সংলাপে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সম্প্রীতি প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আইরিন বাশার রিফাত, ইসরাত পারভীন, মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ শায়লা মনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×