কালীগঞ্জ ভোটের চিত্র

দিনভর ভোটারের খরা, গণনার সময় বাক্স বোঝাই!

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালীগঞ্জ ভোটের চিত্র

সকালের দিকে ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ফাঁকা। দুপুরেও সেভাবে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ল না। কিন্তু বিকালে গণনার সময় বাক্সে এত ব্যালট পেপার আসল কোথা থেকে? হাটে-বাজারে-দোকানে এমন প্রশ্নই এখন কালীগঞ্জবাসীর মনে। অনেকে আবার একে ‘ভৌতিক ভোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন।

রোববার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ২০টি কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ভোটারদের আনাগোনা সেভাবে চোখে পড়ল না। ভোটারদের লাইন তো দূরের কথা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মোবাইল ফোনে এবং নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা যায়।

তবে প্রিসাইডিং অফিসারদের বক্তব্য দুুপুরের পর ভোটারদের উপস্থিতি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। তবে আগের দিন বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের আশপাশের ভোটারদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের যে কথা হয় তার সঙ্গে কেন্দ্র ফাঁকা দেখানোর মিল পাওয়া গেল।

শনিবার অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলছিলেন, কাল (রোববার) যে ভোট তা তো জানিই না। কোনো প্রচার-প্রচারণাও তো দেখলাম না!

উপজেলার কালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮টি বুথের একটি পারশ্রীরামপুর গ্রামের ৩২০ জন মহিলা ভোটারের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এ বুথে কোনো ভোটারকে ভোট দিতে দেখা না গেলেও দিনশেষে দেখা গেল এ বুথে ভোট পড়েছে দেড়শ’।

এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৯৭৮ ভোটের মধ্যে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৪০টি এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত ২০০ ভোট পড়ার কথা জানানো হলেও বাক্স খুলে গণনায় দেখা গেল ভোট পড়েছে ৮০০! এত অল্প সময়ে এত ভোট পড়ার কারণ জানতে চাইলে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কেএম নজরুল ইসলাম জানান, দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যায়।

কালীগঞ্জ পৌরসভায় ঈশ্বরবা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত এক হাজার জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুলালমুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, চেয়ারম্যান ও তার ছেলেসহ ২০-২৫ জনের একটি গ্রুপ দুপুরের পর জাল ভোট দিতে আসে, বাধা দেয়ায় আমাকে মারধর করা হয়।

কুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫টি বুথে ভোট নেয়া হয়। ২ হাজার ৪৭৩ ভোটারের মধ্যে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র ১৬৮টি। ৪টার পর বাক্স থেকে বের করা হল ১ হাজার ৩৯১টি ভোট। প্রিসাইডিং অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, সকাল থেকেই কম-বেশি ভোট পড়ছিল। তবে দুপুরের পর ভোটার বেশি আসতে থাকে।

কুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশের দোকানদার বলেন, সারা দিনই তেমন কোনো ভোটার উপস্থিতি আমার চোখে পড়েনি। দুপুরের পরও দেখা যায়নি ভোটারের লাইন।

কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০৪ ভোটের মধ্যে ১১টা পর্যন্ত ৬টি ভোট কাস্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গণনায় পাওয়া গেল ৫৭০ ভোট। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কামরুজ্জামান জানান, সকালে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম ছিল। দুপরের পর হঠাৎ করে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

ঘটনাপ্রবাহ : উপজেলা নির্বাচন ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×