দাম বেড়েছে মাছ মিনিকেট চাল লেয়ার মুরগির

কমেছে পেঁয়াজের

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

রাজধানীর বাজারগুলোয় সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে। বিক্রেতা বলছেন, বৃহস্পতিবার রাতে মাছের গাড়ি খুব কম এসেছে। ফলে মাছ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-২০ টাকা। তাছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১-২ টাকা। লাল লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-১২ টাকা। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৬-১৩ টাকা। তেল, চিনি ও ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার ঢাকার কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মাছের বাজারে স্বস্তি ছিল। কিন্তু শুক্রবার দাম কিছুটা বেড়েছে। এক কেজি ওজনের এক জোড়া ইলিশ বিক্রি হয়েছে বাজারভেদে ২৮০০-২৯০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১৪০০ টাকা। ৬০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১২০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, মাছের সরবরাহ কম। গাড়ি এসেছে অনেক কম। যে গাড়িগুলো এসেছে তাদের বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। রূপচাঁদা ৪টিতে এক কেজি ওজনের ৯৫০ টাকা এবং ৫টিতে এক কেজি ওজনের বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা। রুই, কাতলা বিক্রি হয়েছে কেজি ২২০-৩০০ টাকা, চিংড়ি বড় আকারের কেজি ৭৫০ টাকা, মাঝারি ৬৫০ টাকা এবং ছোট আকারের ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১১০-১৩০, সিলভার কার্প ৯০-১১০, পাবদা ৩৫০-৫০০, পাঙ্গাশ ৯০-১০০, নলা ১১০-১২০, সরপুঁটি ১২০, গ্রাস কার্প ১২০-১৩০ টাকা কেজি এবং কই ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ী হায়দার বলেন, পাইকারি বাজারে মাছ অন্যদিনের তুলনায় নেই বললেই চলে। তাই বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনতে হয়েছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ক্রেতা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, শুক্রবার এলেই বাজারে একটা না একটা ফ্যাকড়া লেগে থাকে। বৃহস্পতিবার মাছের গাড়ি আসেনি। সুতরাং দাম বাড়াটা স্বাভাবিক। তবে এটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

এদিকে মিনিকেট চালের দাম ফের কেজিতে ১-২ টাকা বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধানের মৌসুম শেষ হওয়া এবং হাওরে বন্যায় ধানের উৎপাদন কম হওয়ার কারণে বাজারে ধান সংকট থাকায় বর্তমানে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে। বাজারে অন্য কোনো চালের দাম নতুন করে বাড়েনি। মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৬৪ টাকা। এ ছাড়া বিআর-২৮ বিক্রি হয়েছে ৫১-৫৪ টাকা, পারিজাত ৪৬-৪৮, নাজিরশাইল ৬৫-৭৮ এবং জিরাশাইল ৫৮-৫৯ টাকা কেজি দরে। কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ, বাচ্চু মিয়া ও আবু রায়হান জগলু বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চাল কেজিতে ১-২ টাকা বেড়েছে। মিলাররা জানিয়েছেন, এর মূল কারণ ধানের অভাব। বৈশাখের আগে দাম কমবে না। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী কবীর হাসান বলেন, মিনিকেট চাল যে ধান দিয়ে তৈরি হয় সেটি আসলে উৎপাদন হয় বৈশাখ মাসে। এখন মৌসুম শেষ হওয়ায় ধানের সংকট রয়েছে।

কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে আলু বিক্রি হয়েছে পুরাতন ১৫ টাকা কেজি এবং নতুন ২০-২৫ টাকা কেজি দরে। চিচিঙ্গা ৫০, মুলা ২০, বেগুন মান ও জাতভেদে ৫০-৬০, টমেটো ২০-২৫, ব্রকলি ২৫ টাকা পিস, বরবটি ১০০-১২০, করলা ৭০, শিম ৫০-৬০, ফুলকপি ৩০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ২৫, শসা ৫০, গাজর ২০-২৫, পেঁপে ২০, ছোট আকারের চাল কুমড়া (জালি) ৬৫-৭০, লাউ ছোট আকারের ৫৫-৬৫, ধনেপাতা ৫০ এবং কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি।

কারওরান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা রুবেল জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬-১৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শুক্রবার আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৫৮ টাকা ছিল। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৬ টাকা। রসুন আমদানি ও দেশি উভয়ই ৯০-১০০ টাকা কেজি এবং আদা বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা কেজি দরে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজি। লাল লেয়ার কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৫০ টাকা কেজি। খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজি এবং বকরির মাংস ৭০০ টাকা। গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।