পুরান ঢাকাকে নিরাপদ করতে গণশুনানি

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেবে ডিএসসিসি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেবে ডিএসসিসি

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি এবং বাসস্থানের সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি বলেছেন, এ অগ্নিকাণ্ডে অনেকে স্বজন হারিয়েছেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আবার শিশুসন্তান রেখে বাবা-মায়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।

যাদের সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে তারা যদি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেন আমরা তাদের চাকরির ব্যবস্থা করব। সেই সঙ্গে তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।

পুরান ঢাকাকে অগ্নিঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ করতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও আমরা আমাদের অবস্থান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিয়ে যাব। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ‘ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন এবং এতে সহায়তা দেয়ার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বেলা, ব্লাস্ট, ব্র্যাক, বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট, এএলআরডি এবং নিজেরা করি এ গণশুনানির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। ‘অগ্নিঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ পুরান ঢাকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান। বক্তব্য দেন- অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজ, ব্লাস্ট অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের নগর ও পরিবেশ সম্পাদক ড. ফরিদা নিলুফা, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকৌশল বিভাগের প্রধান ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, এইচআরএলএফের পরিচালক শেখ জেনিফা খানম জব্বার প্রমুখ।

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বক্তব্য দেন- মো. নাসির উদ্দিন, আজিজ উদ্দিন, মনসুর আলী দীপু, ময়না বেগম ও আবদুস সালাম আজাদ। ময়না বেগম বলেন, চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন। আমার ছোট ছোট তিনটা বাচ্চা রয়েছে। ওদের বয়স ৭ বছর, ১১ বছর এবং ১২ বছর। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলতে আমার স্বামীই ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতি মাসে চার হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে। আগামী মাসের ভাড়া কোথা থেকে দেব তার নিশ্চয়তা নেই। এভাবে আমার শিশুসন্তানদের নিয়ে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

আবদুস সালাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমার ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তার ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তান নিয়ে তার মা অসহায়ের মতো দিন কাটাচ্ছে। ওদের সহযোগিতা করার মতো অবস্থা আমারও নেই। তিনি এতিম শিশুদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় পুরো অডিটোরিয়ামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরে মুক্ত আলোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের যেন নিমতলী ও চুড়িহাট্টার মতো আর কোনো বেদনাদায়ক ঘটনার মুখোমুখি না হতে হয় সেজন্য করণীয় নির্ধারণ, অতীতের বিশ্লেষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ, কিভাবে সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে রাসায়নিক পদার্থের ঝুঁকি কমানো যায়, পুরান ঢাকাকে বিস্ফোরক রাসায়নিক অগ্নিঝুঁকিমুক্ত করতে আশু করণীয়, পুরান ঢাকার অবকাঠামোয় পরিবর্তন আনা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

গণশুনানিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক আলহাজ আবদুস সালাম, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ও পারফিউমারি মার্চেন্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন।

উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন নিহত হয়। দগ্ধ হয় অনেকে। এই পুরান ঢাকার নিমতলীতে ২০১০ সালের ৩ জুন অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহত হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : চকবাজার আগুনে মৃত্যুর মিছিল

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×