যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্থবিরতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ পেছাল

  উবায়দুল্লাহ বাদল ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ। আগামী ৩১ মার্চে উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ হতে পারে। এখনও দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আগে আরও পাঁচটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আগে আরও পাঁচটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরাজমান প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর উৎক্ষেপণ পূর্বনির্ধারিত আগামী ৩১ মার্চে হচ্ছে না। তা পিছিয়ে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ যেতে পারে। উৎক্ষেপণ হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে ৩টায়, যা বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত। উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার করার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরেই এটি উৎক্ষেপণের কথা ছিল। তা পিছিয়ে চলতি বছরের ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। এখন আবার এপ্রিল বলা হচ্ছে। আসলে কবে নাগাদ এটি উৎক্ষেপণ হবে তা বলা মুশকিল।

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের সময় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তা সারা দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেখানো হবে, যাতে দেশবাসী বাংলাদেশের গৌরবের এই কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারে। এ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচারণা (গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায়) এবং আতশবাজির মাধ্যমে সারা দেশে উৎসব পালন করা হবে। তা ছাড়া উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। এসব কার্যক্রম এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন বাবদ প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেস এক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে গত ১৬ ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হারিকেন ‘আরমা’য় ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায় এবং বাংলাদেশ সূচির জটে পড়ে।

উৎক্ষেপণে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিটিআরসি প্রধান বলেন, আমেরিকান যে কোম্পানি স্যাটেলাইট লঞ্চ করবে তারা একটি পুরনো রকেট ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল। আমরা বলেছি পুরনো রকেট ব্যবহার করব না। এটা একটা কারণ। আর যেহেতু ‘স্পেস এক্স’ অত্যন্ত নামকরা কোম্পানি, ওদের ওখানে লম্বা লাইন আছে। ওই লাইনের ভেতরে আমরা পড়েছি।

২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়ার পর প্রায় দুুই হাজার কোটি টাকায় ‘থালেস’র সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে অর্থায়নের জন্য হংক সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (এইচএসবিসি) সঙ্গে ২০১৬ সালে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করা হয়।

সরকার আশা করছে, এ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি স্থানে কাজ চলছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter