খুলনার বেশির ভাগ বহুতল ভবন অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকিতে

সরঞ্জাম নেই ফায়ার সার্ভিসের * অনুমোদন ছাড়া বেড়ে ওঠা বহুতল ভবন চিহ্নিত করার কাজ মঙ্গলবার শুরু করেছে কেডিএ

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকি

খুলনার বেশির ভাগ বহুতল ভবন অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনুমোদন ছাড়া বেড়ে ওঠা বহুতল ভবন চিহ্নিত করার কাজ মঙ্গলবার শুরু করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)।

তাদের হিসাব মতে, খুলনায় ৬ তলার অধিক ভবন রয়েছে ৪৯টি। এর বাইরে যাদের ভবন রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে খুলনা বিভাগের বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের।

নগরীর নূরনগর এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অফিসে জনবল ও জলযান পর্যাপ্ত থাকলেও অগ্নিপ্রতিরোধক আধুনিক সরঞ্জাম খুবই সীমিত। তবে এ বিষয়ে একাধিকবার ওপর মহলে জানানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় দায়িত্বশীলদের। এদিকে খুলনার আলোচিত মার্কেটগুলোর আশপাশে পানির উৎস এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের জন্যও পর্যাপ্ত রাস্তা নেই বলে অভিযোগ মিলেছে। যার ফলে যে কোনো বড় অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলেই হিমশিম খেতে হবে ফায়ার সার্ভিসকে।

স্থানীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, বহুতল ভবনের অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য টার্ন টেবিল লেদার (টিপিএল) ১৫ তলা মইবিশিষ্ট কোনো গাড়ি নেই খুলনায়। এছাড়া বহুতল ভবনগুলোতে ফায়ার এক্সিটিংগুইসার (ছোট সিলিন্ডার, যা হাত দিয়ে স্প্রে করা যায়) তুলনামূলক খুবই কম। এমনকি ভবনগুলোতে ফায়ার অ্যালার্মিং সিস্টেম, ফায়ার প্রটেকশন ডোর (৩-৪ ঘণ্টা অগ্নিপ্রতিরোধক দরজা), বিকল্প সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও সেই ব্যবস্থা থাকে শতকরা ১-২টা ভবনে। এই সমস্যা বাণিজ্যিক এবং বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবনগুলোয়। বিভাগীয় অফিসের একমাত্র ভরসা একটি মাত্র এসনরকেল (১২ তলা মই, যা বিভিন্নভাবে ডানে এবং বামদিকে নেয়া যায়), যা খুবই অপ্রতুল।

সম্প্রতি পুরান ঢাকা, বনানী, গুলশানসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর খুলনার বহুতল ভবনগুলোতে থাকা মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ গত কয়েক বছরে খুলনায় একের পর এক গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক ভবন গড়ে উঠলেও তার বিরুদ্ধে অভিযান খুবই কম। যার ফলে এর পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে। খুলনার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, খুব অল্প সময়ে বহুতল ভবনের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

অনেকে জানেনই না এসব ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনা কিভাবে মোকাবেলা করতে হয়। এমনকি ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা বা প্রস্তুতি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। তারা অভিযোগ করেন, দেশে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই টনক নড়ে প্রশাসনের। এ সময় বহুতল ভবনের অনুমতি যাচাই-বাছাই করা হয়। কেডিএ’র সচিব লস্কর তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, ‘খুলনার বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ কর্মদিবস এ কার্যক্রম চলবে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘খুলনায় শতাধিক বহুতল ভবন রয়েছে। বিভাগীয় অফিসে ১২ তলা পর্যন্ত অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য ১টি এসনরকেল রয়েছে। আরও আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খুলনায় ১৫ এবং ২০ তলা ভবনের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু আমাদের এসব ভবনের অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য টিপিএল দরকার। যা আমাদের নেই।

এছাড়া তিনি বলেন, নগরীর দৌলতপুর, নিউমার্কেট, বড় বাজার এলাকাসহ আশপাশের বহুতল ভবনের আশপাশে পানির কোনো উৎস নেই। যা দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সময় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×