বশেমুরবিপ্রবিতে ২ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে অনশন গণস্বাক্ষর

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যৌন নিপীড়নে

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষক মো. আক্কাস আলীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে অনশন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল থেকে আন্দোলনের চতুর্থ দিন সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে এ কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীরা যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি বাতিল করে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক কমিটি গঠনসহ অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে সিএসই বিভাগের সামনে পর পর দু’দিন অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে কৌশলে সময়ক্ষেপণ করছে বলে তাদের ধারণা। হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে কমিটি গঠিত হলে ন্যায়বিচার পাবেন তারা।

এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাস আলী মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে ফিরে যেতে বলছেন। অভিযোগে তারা বলেন, ঘটনার শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক নারী শিক্ষক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যানকে দিয়ে ঘটনাটি চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ভিসির একান্ত অনুগত ওই শিক্ষক নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের নানা ভয়ভীতিও প্রদর্শন করেন বলে ওই সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। একদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, অপরদিকে জাতীয় গণমাধ্যম, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ টকশোতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বইছে নিন্দার ঝড়।

ছাত্রী যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নেসারুল হক শিশিরের বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন প্রশ্নের জম্ম দেয়। তার দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রেখে আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে ফিরে আসার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়।

তার দেয়া ওই পোস্টে যা লেখেন তা হল, সিএসই বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাননীয় ভিসি স্যার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অভিযোগটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি নতুন করে কমিটি গঠন করেন। আশা রাখি, এই তদন্ত কমিটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেবে।

শিক্ষার্থীদের সবাইকে ধৈর্যধারণ করা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে আহ্বান জানাচ্ছি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সিএসই বিভাগের ওই শিক্ষকের বক্তব্য ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি। এ জাতীয় বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন তারা। এর আগে যৌন নিপীড়ক শিক্ষক সহকর্মী আক্কাস আলীর ঘটনায় তিনি বিব্রত হয়েছেন বলে একটি জাতীয় দৈনিকে মতামত দিয়েছেন। এখন রাতারাতি কেন তিনি সুর পাল্টাচ্ছেন।

সিএসই বিভাগের শিক্ষক মো. নিসারুল হকের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসের তীব্র সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা। তিনি তার স্ট্যাটাসে লেখেন, যৌন নির্যাতনের শাস্তি বা যৌন নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগকারী উভয়ের জন্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রয়েছে। এ শাস্তি হতে হবে দৃষ্টান্তমূলক এবং সর্বসম্মুখে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×