বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেতে পারেন খালেদা : তাপস

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড নিয়ে একটি প্রতিক্রিয়াশীল মহল ধূম্রজাল সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, এখন আইনের প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া আপিল করবেন। তাকে জামিন দেয়া যায় কিনা, আদালত তা বিবেচনা করবেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি জামিন পেতে পারেন। রোববার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- পরিষদের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আবদুল মতিন খসরু, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবুদল বাসেত মজুমদার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি মো. অজি উল্লাহ প্রমুখ।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমাদের দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। যে জাতি যত বেশি করে আইনের শাসন ভোগ করেছে সেই জাতিকেই তত বেশি সভ্য মনে করা হয়।’ সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধনী-গরিব, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কারও সঙ্গে কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। সবাই সমান।’

তিনি বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অপসংস্কৃতির অবসান হয়েছে। যতটুকু আমরা এজাহার এবং চার্জশিট থেকে দেখেছি এ মামলাটি অত্যন্ত পরিষ্কার মামলা। তারপরও মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ কালক্ষেপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এতিম তো দূরে থাক কোনো গরিব ব্যক্তির জন্য ওই ট্রাস্টের টাকা ব্যবহার করা হয়নি। শরফুদ্দীন, তারেক রহমানরা টাকাগুলো নিজেদের নামে আÍসাৎ করেছেন। ব্যারিস্টার তাপস বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, এ রায়কে সেই মহল একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সষ্টির প্রচেষ্টা করছে তারা। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে তারা দেশকে যে বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল সেরকম একটি ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। ডিভিশন দেয়া নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডিভিশন তার প্রাপ্য। সে প্রাপ্য পরিপূর্ণভাবে তাকে দেয়া হয়েছে। সুতরাং ধূম্রজাল ও ষড়যন্ত্র সৃষ্টির অবকাশ নেই। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অভিযুক্ত হয়ে কারও দুই বছরের অধিক সাজা হলে সাজার পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। এখন হাইকোর্টে আপিল হবে। তিনি জামিন আবেদন করতে পারবেন। জামিনও পেয়ে যাবেন। তিনি মামলা স্থগিতও চাইতে পারেন। এ অবস্থায় কেউ যদি আপিল করে, আপিল চলা অবস্থায় একেবারে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কাজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা ঠিক না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আপিলে যদি সাজা টিকে যায়, তখন যদি তিনি সংসদ সদস্য হন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ওই আসনে উপনির্বাচন হবে। আমরা যতটুকু জানি খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়নি- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে কারা অভ্যন্তরে তিনি সাজাপ্রাপ্ত বা হাজতি আসামি। তিনি যে অবস্থায়ই থাকেন না কেন তিনি কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন। যেমন একজন অসুস্থ ব্যক্তি থাকলে তার চিকিৎসার সুবিধা আছে। জেলকোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.