মাছ-মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উৎপাদন বাড়ায় মাছ ও মাংসে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সুখবর দেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল ছাড়াও মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য খাত বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জোগান দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মৎস্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরের থেকে ৫৩ শতাংশ বেশি। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭১ লাখ ৩৫ হাজার টন মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন উৎপাদন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মৎস্য আহরণে বিশ্বে চতুর্থ এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। মাছে-ভাতে বাঙালি ঐতিহ্য আমরা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তেলাপিয়া, কই, পাবদা, গুলশা, শিং ও মাগুর মাছের উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় সিলভার কার্প, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া ও কই এখন প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। বদ্ধ জলাশয়ে নিবিড় মৎস্য চাষ, নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করা, মৎস্য অভয়াশ্রম ও সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব চিংড়ি ও মৎস্য চাষের সম্প্রসারণ, মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃত মৎস্যজীবী ও জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদফতর ইতিমধ্যে ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী ও জেলেদের নিবন্ধন শেষ করে ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দিয়েছে।’ একজন সাংবাদিক মাংস ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে মন্ত্রীকে বলেন, গরুর খামার কমে যাওয়ায় ঢাকায় মাংসের দোকান ৬৭২টি থেকে ২২৮টিতে নেমে এসেছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গরুর খামার কমার তথ্য সঠিক নয়। আর মাংস বলতে শুধু গরু নয়, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, মহিষ সবই বোঝায়। উৎপাদন বেড়েছে সার্বিকভাবে। দাম বেড়ে যাওয়ায় কেউ গরুর মাংস কম খেলেও মুরগির মাংস সেই জায়গা পূরণ করছে।’ মাংস বিক্রেতারা বলে আসছেন, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৩০০ টাকার নিচে রাখা সম্ভব। এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘১৫ মার্চের মধ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভার পর মাংসের দাম কমে আসবে বলে আশা করছি।’ রোজা ও কোরবানি ঈদের সময় গরু আমদানি করা হবে কিনা- এ প্রশ্নে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘দেশি গবাদি পশুতে চাহিদা মিটলে আমদানি করা হবে না।’ ইলিশের উৎপাদন গত বছর ৬৬ শতাংশ বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চাহিদা পূরণের পর বাড়তি থাকলে ইলিশ রফতানির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter