কেসিসিতে ভুয়া বিল

২৯ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারার ফের তদন্ত হচ্ছে

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুই সদস্যের কমিটি

  খুলনা ব্যুরো ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভুয়া বিলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ২৯ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ৬ ফেব্র“য়ারি এক অফিস আদেশে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ খুলনার পরিচালককে। আর সদস্য করা হয়েছে এলজিইডি খুলনার একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় এর আগে এক দফা তদন্ত ব্যর্থ হওয়ায় পরের কমিটি গঠন করা হয়।

কেসিসি সূত্রে জানা যায়, সর্বনিম্ন ৬ থেকে ৮ টন ওজনের স্টিলের তৈরি একটি থ্রি-ওয়াই রোড রোলার সরবরাহের জন্য ২০১৫ সালে টেন্ডার আহ্বান করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর কার্যাদেশ পায় মেসার্স সরকার কবির আহমেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মালিক আরেকজন হলেও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নড়াইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম। কার্যাদেশ পাওয়ার পর তিনি একটি চায়না রোলার সরবরাহ করেন। স্কেলে (ওজন পরিমাপক যন্ত্র) মেপে যার ওজন ৫ টনের কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া চাকার মাপেও ত্র“টি পাওয়া যায়। এ কারণে কেসিসির সংশ্লিষ্ট কমিটি রোলারটি বুঝে নেয়নি। কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি কেসিসির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাসকে জানানো হলে তিনি রোলারটি সরেজমিন পরিদর্শন ও পরিমাপের রিপোর্ট দেখে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করেন। কিন্তু এরপর কেসিসির ওই কমিটির একজন সদস্যের যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রোলারটি একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে চাকার মূল প্লেট অপসারণ করে পুরাতন লোহার এমএস প্লেট সংযোজনের মাধ্যমে চাকার ডিজাইন পরিবর্তন করে ওজন বৃদ্ধি করেন। এরপর ওই রোলার গছিয়ে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিবের দারস্থ হলে তিনি এ বিষয়ে কেসিসিতে একটি পত্র প্রেরণ করেন। ওই পত্র নিয়ে শুরু হয় একের পর এক নতুন অনুচ্ছেদ সৃষ্টি। এসব অনুচ্ছেদে রোলারটি পুনরায় মাপার নানা পদ্ধতির অবতারণা করে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ হয়। এতে বলা হয়, সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৫ টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করা যায়। এতে স্বাক্ষর করেন বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা। রোলারের মূল্য বাবদ উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করার পর আবারও পর্যায়ক্রমে ২৪টি অনুচ্ছেদের গোজামিল শুরু হয়ে ৮৫ নম্বর অনুচ্ছেদে এসে ঠিকাদারকে বকেয়া ও চূড়ান্ত বিলের নামে ফের ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫৩৫ টাকা ভৌতিক বিল পরিশোধ করার সুপারিশ করা হয়। এরপর এক দিনেই ৫টি অনুচ্ছেদ সৃষ্টি করে ঠিকাদারের নামে ওই টাকার চেক প্রদান করা হয়। অথচ পুরো মূল্য পরিশোধের পর আবার ২৯ লাখ টাকা কিভাবে বকেয়া বিল হল- তার ব্যাখ্যা নেই কোনো অনুচ্ছেদে।

দুর্নীতির এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে এলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রেরিত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার। গত ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত সম্পন্ন করেন। সেখানে যে প্রতিষ্ঠান ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, সে প্রতিষ্ঠানের কাউকেই ডাকা হয়নি। ছদ্মবেশী ঠিকাদার বিএনপি নেতা তার কাছে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি কোনো ঠিকাদার নন। এভাবেই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটাই মাঠে মারা যায়।

বিষয়টি জানতে পেরে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ৬ ফেব্র“য়ারির এক অফিস আদেশে ভুয়া বিলে কেসিসির ২৯ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারার তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter