অগ্নিঝুঁকিতে রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার

মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার

  রাজশাহী ব্যুরো ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রন্থাগার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের মূল ফটকের সিলিন্ডারটির মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে। সাত বছর হল শেষ হয়েছে পাশেরটিরও। এরকম ১৯টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারই মেয়াদোত্তীর্ণ।

অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার এমন দশায় রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চরম অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। এ গ্রন্থাগারে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পুস্তক, ৪১ হাজার সাময়িকী ও দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নি দুর্ঘটনার পরও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সরেজমিন দেখা গেছে, অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার রাখার জন্য গ্রন্থাগারের প্রবেশর পথের সামনে কাচবিশিষ্ট কাঠের বাক্স তৈরি করা হয়েছে। তার ওপরে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ব্যবহারের নির্দেশনাবলী দেয়া রয়েছে। কিন্তু ওই বাক্সে রাখা সিলিন্ডারটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৯ সালে- অর্থাৎ ১০ বছর আগে। তার পাশেই রেফারেন্স শাখার ফটকে রাখা হয়েছে আরেকটি সিলিন্ডার।

সেটিরও মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। সিঁড়ির পাশেই ক্যাটালগিং শাখার সামনে রাখা সিলিন্ডারটির মেয়াদ ২০১১ সালে শেষ হয়েছে। পাঠকক্ষের সামনে রাখা সিলিন্ডারটি ২০১৩ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে। রিডিং রুমের প্রায় সবক’টি সিলিন্ডারের মেয়াদ বেশ কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছে।

এদিকে, গ্রন্থাগারের কর্মচারীদের একজনও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে জানেন না। এ বিষয়ে কাউকে কখনও কোনো প্রশিক্ষণও দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিনি প্রায় ২০ বছর থেকে চাকরি করছেন। এরমধ্যে একবারও তাকে অগ্নিনির্বাপণসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। যে যন্ত্রগুলো আছে সেগুলো ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেষ্টা করলে হয়তোবা পারব। এর মধ্যেই গত বছর বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আগুন লাগে। আগুনের মাত্রা কম ছিল বলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল বলে জানান কর্মচারীরা।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগারটি খুবই সমৃদ্ধ। এখানে ২৪৭ বছর আগের বইও রয়েছে। ১৭৬৪ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম বের্টনের মানচিত্রবিষয়ক বই ‘ব্রিটানিকা অ্যাটলাস’ ছাড়াও দেশ ও বিদেশের প্রকাশিত ১২৭টির বেশি সচিত্র মানচিত্র রয়েছে গ্রন্থাগারটিতে। ২০০৮ সালে পুরো গ্রন্থাগারকে শীতাতপের ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। এছাড়া এখানে ইন্টারনেট ল্যাবও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ গ্রন্থাগারে প্রশাসন শাখা, অ্যাকুইজিশন শাখা, প্রস্তুতি শাখা, সাময়িকী ও সংবাদপত্র শাখা, পাঠককক্ষ শাখা, ধারকক্ষ শাখা, বাঁধাই শাখা, স্ট্যাক শাখা, রিপ্রোগ্রাফিক শাখা, রেফারেন্স শাখা এবং ইন্টারনেটসহ ১১টি শাখা রয়েছে। গ্রন্থাগারে আধুনিকের ছোঁয়া লাগলেও অগ্নিনির্বাপণ অবস্থা খুবই করুণ।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওবাইদুল্লাহ রকি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। সেটা নিরাপদ না হলে আর কোথাও নিরাপদ কল্পনা করা কঠিন। তাই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করা উচিত। গ্রন্থাগারের প্রশাসক প্রফেসর সুভাষ চন্দ্র শীল যুগান্তরকে জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সচেতনতা বেড়েছে। রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অতিদ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×