বদলি বাণিজ্যের তোড়জোড়

  উবায়দুল্লাহ বাদল ১০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্য মন্ত্রণালয়
খাদ্য মন্ত্রণালয়। ছবি: যুগান্তর

প্রস্তাবিত বদলি-পদায়ন নীতিমালা কার্যকরের আগেই খাদ্য অধিদফতরের সব ধরনের বদলি-পদায়ন স্থগিত রেখেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। কিন্তু নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বদলি-পদায়নের হিড়িক পড়ে গেছে।

প্রশাসনিক কার্যক্রমের দোহাই দিয়ে কিছু এলএসডি’র (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদে রদবদল হয়েছে। আরও ২০-২৫টি পদে বদলির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নীতিমালা কার্যকর করার আগেই পর্যায়ক্রমে এসব পদে বদলি-পদায়নের তোড়জোড় চলছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই নওগাঁর এমপি সাধন চন্দ্র মজুমদার দীর্ঘদিনের বদলি-পদায়ন বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা তৈরির ঘোষণা দেন। নীতিমালা কার্যকরের আগে সব বদলি-পদায়ন স্থগিতের নির্দেশও দেন।

কিন্তু ‘প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে’- এমন অজুহাত দেখিয়ে রাজবাড়ীর পাংশা, নেত্রকোনোর পূর্বধলা, মাদারীপুরের শিবচর এবং নওগাঁ সদরের এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদায়ন করা

হয়েছে। আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে বদলি পদায়নের পাইপলাইনে রাখা হয়েছে। তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম রয়েছে, নীতিমালা কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের বদলি-পদায়ন হওয়ার কথা নয়।

নিজ দফতরে কথা হয় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে। রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনকে শাস্তিমূলক এবং অপর দু’জনকে পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি করা হয়েছে। আরও একটি করা হয়েছে, তবে তা বদলি-পদায়নের জন্য নয়।

সেটা মূলত বদলি-পদায়নের জন্য কারা ডিও দিয়েছে, কোথায়, কোন পদে কাকে বদলি-পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে এবং সুপারিশকারী ব্যক্তির নাম-পরিচয় সংবলিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা। বদলি-পদায়নের গুরুত্ব নির্ধারণের জন্যই মূলত এই তালিকা করা হয়েছে।’

নীতিমালার কার্যকর হওয়ার আগেই তালিকা ধরে বদলি-পদায়ন করা হবে কি না- জানতে চাইলে সরাসরি জবাব না দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। দু-একটি মিটিং করে তা চূড়ান্ত করার হবে। এর পর তা কার্যকর করা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকের জানিয়েছেন, মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে একটি অসাধু চক্র বদলি বাণিজ্যের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা মন্ত্রীকে বলেছেন, কাক্সিক্ষত পদে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন না করা হলে খাদ্য সংগ্রহ, সরবরাহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। বদলির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি করছে চক্রটি।

খাদ্য অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন পদে বদলি ও পদায়নে বাণিজ্যের অভিযোগ বহুদিনের। লোভনীয় জায়গায় পদায়ন পেতে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্তাব্যক্তিদের দফতরে ভিড় লেগেই থাকে। প্রভাবশালীদের তদবিরে অতিষ্ঠ সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি-ফুড), খাদ্য পরিদর্শক, গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে পদায়ন-বদলিতেই বেশি অনিয়ম-দুর্নীতি হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলির অভিযোগও রয়েছে। প্রতিটি বদলি-পদায়নে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদে পদায়নেই সবচেয়ে বেশি টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এই টাকার ভাগ যায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত।

আগে খাদ্য অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হতো মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের সন্তুষ্টির ওপর। খাদ্য অধিদফতরের মতামত তেমন পাত্তা পায় না। খাদ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পরই এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে চলে যান। তিনি একটি নীতিমালা তৈরির ঘোষণা দেন এবং একটি কমিটি গঠন করে দেন।

প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালায় প্রথমবারের মতো খাদ্য পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদে গ্রেডেশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা, সততা ও কর্মদক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে গ্রেডেশন করা হবে। খাদ্যগুদামগুলোরও ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডে ভাগ করা হবে।

কর্মকর্তারা গ্রেডেশন তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক ‘এ’ গ্রেডের খাদ্যগুদামে পদায়ন পাবেন। একইভাবে ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের খাদ্যগুদামে পদায়ন পাবেন। গ্রেডেশন অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বড় খাদ্যগুদামে পদায়ন করা হবে।

গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে গুদামে পদায়ন করা হলেও প্রতি দুই বছর পর মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে তালিকা পরিবর্তন হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে সততা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা অগ্রাধিকার পাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×