ইফতার বাজার

খেতে মজাদার হলেও স্বাস্থ্যকর নয় জিলাপি

গ্যাস্ট্রিক হৃদরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি

  হক ফারুক আহমেদ ও রাশেদ রাব্বি ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিলাপি

যারা স্বাস্থ্যসচেতন তারা একটি কথা মানেন। তিন সাদাতে নাকি অনিষ্ট। আর এই সাদা খাবার হল- চিনি, লবণ ও চাল। এগুলোর কোনোটিই অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কিন্তু আমরা অনেকে প্রায়ই এ কথাটি ভুলে যাই।

বিশেষ করে গরম ও মচমচে জিলাপি সামনে এলে। কিন্তু মনে রাখতে হবে জিলাপি মানেই প্রচুর চিনি, ময়দা ও ডুবন্ত তেলে ভাজা খাবার। তাই জিলাপি অতি সুস্বাদু খাবার হলেও খুব একটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই জিলাপি খেতে হবে লোভ সামলে, যতটুকু খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না। আরেকটি বিষয়, ঢাকা শহরে বেশিরভাগ জায়গায় জিলাপি ভাজা হয় একেবারেই খোলা পরিবেশে।

তাই জিলাপি কেনার সময় একটু দেখেশুনে, যারা ভালো মানের খাবার তৈরি করেন তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে। ঢাকায় জিলাপি তৈরির একটি অতি পুরনো নাম নিউ পূর্ণিমা স্ন্যাক বার। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের অফিসের বিপরীতে এ দোকানে ১৯৬২ সাল থেকে নিয়মিত জিলাপি তৈরি করা হয়ে থাকে। তাদের জিলাপির বেশ সুনাম আছে। সোমবার সেখানে গিয়ে জানা গেল, রমজানে প্রতিদিন প্রায় ৫০-৭০ কেজি জিলাপি বিক্রি করেন তারা। বড় জিলাপি প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও রেশমি জিলাপি প্রতিকেজি ৩৮০ টাকা।

এর মধ্যে মোটা জিলাপি ও চিকন জিলাপি দুটোই আছে। তবে যারা জিলাপি তৈরি করেন বা পরিবেশন করেন তারা অ্যাপ্রোন বা গ্ল্যাভস ব্যবহার করেন না। এই দোকানে ৩৫ বছর ধরে কাজ করেন সেলিম রেজা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমরা মান বজায় রেখেই জিলাপি তৈরি করি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন জিলাপি কিনতে। অ্যাপ্রোন বা গ্ল্যাভসের কথা জানালে বলেন, অ্যাপ্রোন-গ্ল্যাভস সবই আছে। কিন্তু গরমের কারণে সবসময় পরি না। বছরের অন্য সময়টাতে জিলাপি খুব একটা না হলেও ইফতারির অংশ হিসেবে জিলাপি এতটাই জনপ্রিয় যে শহর থেকে শুরু করে মফস্বল বা গ্রাম সব জায়গাতেই পাওয়া যায় এটি। আর রোজাদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের জিলাপি তৈরি করা হয়। এগুলোর স্বাদ ও দামেও থাকে ভিন্নতা। রোজার সময় তৈরি জিলাপিগুলোর মধ্যে শাহী জিলাপি, বোম্বে জিলাপি, রেশমি জিলাপি, রেশমি জাফরানি জিলাপি, প্যাঁচ জিলাপি অন্যতম। রেশমি বা চিকন জিলাপির যেমন আলাদা কদর আছে, তেমনি দামও অকে বেশি। রাজধানীর গুলশান ২-এর খাজানা রেস্তোরাঁয় রেশমি জাফরানি জিলাপি নামে অত্যন্ত সুস্বাদু এক জিলাপি তৈরি করা হয়। এই জিলাপি মূলত ভারতের রাজস্থানের খাবার, যাতে জাফরানের ব্যবহার করা হয়। দাম প্রতি কেজি ৯শ’ টাকা।

মোহাম্মদপুরের টোকিও সেন্টারের ইফতার বাজারে বেশ উন্নতমানের রেশমি জিলাপি পাওয়া যায়, প্রতি কেজি ৪০০ টাকা। এ ছাড়াও রাজধানীর স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাব, ক্যাপিটাল, আম্বালা সুইটস, স্কাইলার্কসহ নানা রেস্তোরাঁ এবং কনফেকশনারিতে রেশমি বা চিকন জিলাপি তৈরি হয়। যেগুলোর কেজি ৩০০-৫৫০ টাকা। বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও এই সময়ে জিলাপি প্রস্তুত করা হয়। একটি ভিন্ন পদ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী নাম শাহী জিলাপি। এই জিলাপির উৎপত্তি চকবাজারে। যদিও এটি এখন ছড়িয়ে গেছে শহরের নানা প্রান্তে।

চকের ইফতারির বাজারের যে দু-একটি খাবার এখনও কিছুটা মান ধরে রেখেছে তার মধ্যে শাহী জিলাপি একটি। এই জিলাপি ওজনে ১ থেকে ৪-৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বেশ মোটা, প্যাঁচানো এই জিলাপি মাষকলাইয়ের ডাল, বেসন, ঘি, ডালডা আর ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়। চকের শাহী জিলাপির দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা। বোম্বে জিলাপি মোটা ও রসালো। রাজধানীর সব জায়গাতেই কমবেশি এই জিলাপি পাওয়া যায়। দাম ১৫০-৩০০ টাকা কেজি। বেইলি রোডের ইফতার বাজারের মধ্যে ফখরুদ্দিন, নবাবী ভোজ ও ক্যাপিটালেও উৎকৃষ্ট মানের জিলাপি প্রস্তুত করা হয়। জিলাপি প্রসঙ্গে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মিলন যুগান্তরকে বলেন, ইফতারিতে জিলাপি মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নয়। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারিতে এ ধরনের খাবার না রাখাই উত্তম। কারণ এটি চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি করা হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একেবারে নিষিদ্ধ। এছাড়া জিলাপি তেলে ভাজা হয়। একই তেলে বারবার জিলাপি ভাজায় সেখানে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয়। অনেক সময় পুরনো তেলেও জিলাপি ভাজা হয়, যা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে করে যারা গ্যাস্ট্রিকের রোগী তাদের পেটে ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে। আবার ট্রান্সফ্যাট ও কোলেস্টেরলের কারণে এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ইফতারিতে জিলাপি না রাখাই উত্তম।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×