বেরোবির ভর্তি পরীক্ষার সোয়া কোটি টাকা হরিলুট

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাব্বী হাসান সবুজ, বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষা বাবদ আয়ের সোয়া কোটি টাকার হরিলুট হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রির সোয়া কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিলে না দিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান হিসেবে ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ একাই নিয়েছেন তিন লাখ টাকা। অবশিষ্ট টাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অসন্তোষ।

রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদে ২১টি বিভাগের অধীনে ১ হাজার ৩১৫টি সিটের বিপরীতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ৭০ হাজার ৬৬৭টি। বিভিন্ন অনুষদের ফরমের দাম ছিল ৩৮৫ থেকে ৬০৫ টাকা। যেখানে প্রতি শিক্ষার্থীর একটি পরীক্ষা বাবদ খরচ মাথাপিছু একশ’ টাকা, কিন্তু ফরম পূরণ বাবদ ৬ গুণ টাকা বেশি ধরা হয়। এসব ফরম পূরণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭০৫ টাকা। সোমবার ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ফরম বিক্রির আয়কৃত টাকার অংশ উন্নয়ন তহবিলে না দিয়ে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকদের জন্য অনুষদ সমন্বয়কের কাছে চেক পাঠানো হয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অর্জিত আয় থেকে সরকারি অপারেটর টেলিটককে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৮ শতাংশ (২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৫ টাকা) পরিশোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের মোট আয়ের ৪০ শতাংশ (১ কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৬) টাকা বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা দেয়। এদিকে বিভিন্ন উপকমিটিকে ২ লাখ ১১ হাজার ৫০ টাকা, আইটি কমিটিকে ৭ লাখ ৬ হাজার ৬৭০ টাকা পরিশোধ করা হয়। আর বাকি ৬০ শতাংশ টাকা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খরচ করার কথা থাকলেও যাদের জন্য এত আয়োজন, তাদের (পরীক্ষার্থীদের) পেছনে মাত্র ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৩৮ টাকা খরচ করা হয়। এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় সব খরচ সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি ১ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৩৫ টাকা উন্নয়ন তহবিলে না দিয়ে হরিলুট করেছেন ভিসি। এদিকে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান হিসেবে ভিসি নিজেই ৩ লাখ টাকা উত্তোলনের বিষয়টিকে শিক্ষকরা কোনোভাবেই মেনে নেননি। তাই এ ঘটনায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তালিকায় দেখা যায়, সোয়া কোটি টাকার মধ্যে কলা অনুষদকে ২১ লাখ ৪২ হাজার ১৪১, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদকে ৪১ লাখ ২৭ হাজার ২০৯, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদকে ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৯, বিজ্ঞান অনুষদকে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৬৮, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদকে ৬ লাখ ৫ হাজার ২৬৯ এবং জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদকে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৯ টাকা। ছয়টি অনুষদের মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদকে বেশি টাকা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয় যুগান্তর প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রতিবছর মোটা অঙ্কের টাকায় ফরম বিক্রি করে আয় হয়। এর আগের কোনো ভিসি কখনও এই টাকা নিজের জন্য নেননি। প্রতিবারই ভিসির জন্য নিজের বরাদ্দ অর্থ ও বাকি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিলে দান করেছেন। কিন্তু শিক্ষকরা নেয়ার আগেই বর্তমান ভিসি নিজে তিন লাখ টাকা নিয়ে নিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফরমের টাকা নিয়ে এই হরিলুট না করলেও চলত।

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ভর্তি কমিটির সদস্য এবং ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। দফতরে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তারা ঢাকায় আছেন। তাদের একাধিকবার ফোন, মেসেজ করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।