গৌরীপুরে মাদকের প্রতিবাদ করায় যুবক খুন

১৮টি ঘর ভাংচুর আগুন

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গৌরীপুর উপজেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় যুবক নুরুজ্জামান জনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা রাতেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের ১৮টি ঘর ভাংচুর করে এবং আগুন দেয়।

উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের নহাটা বাজারে ইফতারের পরপরই জনির ওপর হামলা করা হয়। এতে জনি মারাত্মক আহত হন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাতেই তার মৃত্যু হয়। জনির পরিবারের দাবি, গৌরীপুরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নুরু মিয়ার মাদকের ব্যবসার প্রতিবাদ করায় জনিকে হত্যা করা হয়েছে। জনির ওপর হামলার ঘটনায় নহাটা গ্রামের কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। নুরু মিয়া, মোজাম্মেল হোসেন, আবদুল কুদ্দুস ও প্রফেসর হাফিজ উদ্দিনের একটি করে ঘর, জিলু মিয়া, আবদুল হালিম ও আবদুল খালেকের দুটি করে ঘর এবং সিরু মিয়া, খাইরুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলামের তিনটি করে ঘর ভাংচুর করে এবং আগুন দেয় ক্ষুব্ধ জনতা।

গৌরীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। সে এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

জনির মা ঝরনা বেগম জানান, ছুটির দিনে জনি বাড়িতে ছুটে আসত। এদিন জনি কিশোরগঞ্জ থেকে সেমাই নিয়ে এসেছিল। এর সঙ্গে তার পছন্দের চালের রুটি বানিয়েও রেখেছিলাম। বাড়িতেই ইফতার করবে বলে জনি তাকে জানিয়েছিল। কিন্তু তাকে সেমাই ও রুটি খেতে দেয়নি ঘাতকরা। তিনি বলেন, ‘আমার সোনার পুতলাডারে আইন্যা দাও। শেখ হাসিনা কইল, দেশে মাদক থাকত না, এই নুরুর তো কিছুই হয় না। হে তো আন্ডা-বাচ্চা সবাইরে গাঞ্জা দেয়। পুলিশও ধরে আর ছাড়ে। আমার পুত এইতার বাধা দিত তাই তো মাইর‌্যা ফেলাইছে। এই যে চারডা মাইয়্যা নিয়ে এখন আমি কী করুম; এটিএম বুথে তো আর ট্যাহা দিত না।’ চার বোন ও মাকে নিয়ে ছিল জনির সংসার। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জনি। এলাকায় তিনি প্রতিবাদী যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জনির ফেসবুক আইডিতে ‘সত্য বল, সুপথে চল’ এমন আহ্বান ছিল। কুমড়ি গ্রামের আবু সিদ্দিক মাস্টারের ছেলে জনি (৩০) নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে অনার্স এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছেন। কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ স্টিল কোম্পানিতে তিনি চাকরি করতেন।

জনির খালাতো ভাই শফিকুর রহমান খান জানান, নহাটা গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে নুরু মিয়া এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ করে ২০১৮ সালের মার্চেও জনির সঙ্গে নুরুর মারধরের ঘটনা ঘটে। জনির বিরুদ্ধে নুরু মিথ্যা মামলাও করে। কয়েক দিন আগে নুরুকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মামলা-হামলা করেও জনির প্রতিবাদ রুখতে না পেরে এবার তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×