জাবি শৃঙ্খলা বিধিতে বিতর্কিত ধারা সংযোজন

হুমকির মুখে মুক্তচিন্তা স্বাধীন সাংবাদিকতা

বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও বাতিল দাবি

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী শৃঙ্খলা বিধিতে দুটি ধারা সংযোজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ধারা দুটিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যাপারে বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন ধারা সংযোজনের বিষয়টি রোববার রাতে জানাজানি হলে সব মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। এতে মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক, কর্তব্যরত সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এটি সংবিধান পরিপন্থী বলেও মতামত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য শিহাব উদ্দিন খান বলেন, আমি মনে করি ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের উল্লেখিত ৫(ঞ) এবং ৫(থ) উপধারা দুটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ৪০ (পেশাবৃত্তির স্বাধীনতা) এর পরিপন্থী। এ উপধারা দুটি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে। ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের কাজের ক্ষেত্র সঙ্কোচিত করবে এবং সাংবাদিকরা নিগ্রহের স্বীকার হতে পারেন।

সংযোজিত ধারার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সূক্ষ্ম উদ্দেশ্য ও বিশেষ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ধারা দুটি সংযোজন করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির উদ্দেশ্য ‘মুক্তচিন্তা’ একই সঙ্গে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে। তাই অবিলম্বে বিতর্কিত ধারা দুটি বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।

ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ নতুন বর্ষের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে তাড়াহুড়ো করে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সেখানে সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান হতে পারে।