ক্যাম্পভিত্তিক চক্র ফের সক্রিয়

সাগরপথে মানব পাচারে টার্গেট রোহিঙ্গারা

  শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার) ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

সাগরপথে মানব পাচারকারীরা ফের সক্রিয়। তাদের মূল টার্গেট মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

আর এ লক্ষ্যে পাচারকারীরা রোহিঙ্গা যুবক ও তরুণীদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে ক্যাম্পের বাইরে এনে সুবিধমাতো জায়গায় জড়ো করছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে অন্তত ৫ শতাধিক মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে গিয়ে ২০১৩-২০১৪ সালে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সাগরে ডুবে যায়। এখনও নিখোঁজ রয়েছে কয়েক হাজার লোক। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে একপর্যায়ে মানব পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। তবে সম্প্রতি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাচারকারী চক্র।

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির থেকে কৌশলে পালিয়ে দালালের হাত ধরে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত ৪ দিনে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ধরা পড়েছে শতাধিক রোহিঙ্গা। আর সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রার সময় গত ৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে উদ্ধার হয়েছে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা।

জানা গেছে, গত বছরের ৬ নভেম্বর ফের মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওইদিন টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী ১৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে বিজিবি। দালালচক্র মালয়েশিয়া নেয়ার কথা বলে দু’দিন সাগরে এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে ‘থাইল্যান্ডের তীরে পৌঁছেছি’ বলে টেকনাফের সৈকতে তাদের নামিয়ে দেয়। বিজিবি তাদের উদ্ধার করে। পরদিন ৭ একইভাবে আরও ৩৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ছয় স্থানীয় দালালকেও আটক করা হয়।

গত ৬ নভেম্বর থেকে ১৮ মে পর্যন্ত ২০ দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৮১ রোহিঙ্গা ও ২ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বেশিরভাগই নারী।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা হওয়ায় কক্সবাজারে মানব পাচারের ঘটনা বেশি। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মানব পাচারের ঘটনায় ৪৩৩টি মামলা হয়েছে। প্রতি মাসেই মানব পাচারের মামলা হচ্ছে। উখিয়া-টেকনাফসহ জেলা পুলিশ মানব পাচারকারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। বর্তমানে নতুন করে আরও একটি তালিকার কাজ চলছে। পুরনো এবং নতুন তালিকা ধরে অভিযান জোরদার করা হবে।

জানা গেছে, প্রথমদিকে টেকনাফ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্তে মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় থাকলেও পরে কক্সবাজার জেলা পেরিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার শহরতলি হয়ে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। এই নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেয় মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে এসে বসতিগড়া রোহিঙ্গারা। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি এই নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা অপহরণের পর বিদেশে পাচার করে মুক্তিপণ আদায়, থাইল্যান্ডে দাস শ্রমিক হিসেবে বিক্রি, এমনকি খুনও করে থাকে। এই চক্রের খপ্পরে পড়ে শত শত যুবক নিখোঁজ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের এক মাঝি (নেতা) জানান, যাদের আত্মীয়-স্বজন মালয়েশিয়ায় বসবাস করছে, তারাই মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। তারা হুন্ডির মাধ্যমে দালালদের কাছে টাকা পাঠায়।

আবার যাদের আত্মীয়স্বজন সেখানে নেই তারাও উন্নত জীবনের আশায়, অবিবাহিত নারীরা বিয়ের প্রলোভনে মালয়েশিয়া চলে যেতে চায়। এক্ষেত্রে তারা ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করে টাকা জমিয়ে দালালদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে আসা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে। যে কারণে কাঁটাতারের বেড়া বা সীমানা প্রাচীর দেয়ার প্রস্তাবের কথা ভাবছে পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারের কথাও ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×