৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ

সাবেক যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

জালিয়াতির মাধ্যমে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল) বগুড়া শাখার ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় যুবলীগের সাবেক নেতা, মাসফা এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার মাকছুদুল আলম খোকন গ্রেফতার হয়েছেন। ৯ জন পরস্পর যোগসাজশে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে খোকনের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সদর থানার এসআই সুমন কুমার শুক্রবার রাতে শহরের নামাজগড় এলাকার প্রত্যাশা হাউজিংয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। শনিবার দুপুরে তাকে স্পেশাল জজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, এমএম ট্রেডিংয়ের মালিক আকতার হোসেন মামুন, রিমা ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জহুরুল হক মোমিন, নিলয় এন্টারপ্রাইজের মালিক এনামুল হক বাবু, শুকরা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান আকন্দ, ব্যাংকের প্রথম সহকারী ভিপি আতিকুল কবির, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান এবং গ্রাহক ফেরদৌস আলম। দুদকের স্পেশাল পিপি আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলায় স্পেশাল জজ ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। সদর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে ওয়ারেন্টমূলে ঠিকাদার মাকছুদুল আলম খোকনকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। খোকন শহরের বাদুড়তলা এলাকার মৃত শাহ্ আলমের ছেলে।

এর আগে অপর দুই আসামি শুকরা ইন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান আকন্দ ও বরখাস্তকৃত ভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম ২৬ এপ্রিল একই আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক এমরান হোসেন চৌধুরী তা নামঞ্জুর করেন। আবদুল মান্নান আকন্দ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেলেও ব্যাংকার রফিকুল ইসলাম এখনও জেলে আছেন। আদালত সূত্র জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ব্যাংকে ভুয়া হিসাব সৃষ্টি করেন। তারা ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যে জালিয়াতি, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গসহ দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংকের ৩১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ব্যাংকের তৎকালীন বগুড়া শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর সদর থানায় মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে পাঠান। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট দুদকের সাবেক উপপরিচালক আনোয়ারুল হক ওই ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। উচ্চ আদালত থেকে দুই ব্যবসায়ী ও দুই ব্যাংকার জামিন লাভ করেন। এ বছরের ২২ জানুয়ারি বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ নরেশ চন্দ্র সরকার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন। পরে মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য স্পেশাল জজ আদালতে বদলি করা হয়। স্পেশাল জজ এমরান হোসেন চৌধুরী সম্প্রতি ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন। এর কপি সদর থানায় পাঠানো হয়। ৯ আসামির মধ্যে চারজন হাইকোর্ট থেকে জামিনে এবং দু’জন জেলে আছেন। এছাড়া আসামি আকতার হোসেন মামুন, জহুরুল হক মোমিন, এনামুল হক বাবু পলাতক রয়েছেন।