চট্টগ্রামে মৌসুমের শুরুতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

মেগা প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে কবে

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অল্প বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরীতে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) বাস্তবায়ন করছে ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প। এ প্রকল্প এখনও শেষ না হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না নগরবাসী। শুক্রবার রাতে মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক জলাবদ্ধতা। কয়েকদিন ধরে চলা তাপদাহের পর এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার। এটা খুব বেশি মাত্রার বৃষ্টিপাত নয়। এরপরও নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জমে যায় হাঁটু সমান পানি। সেই সঙ্গে নগরবাসী পেলেন মৌসুমের প্রথম জলাবদ্ধতার তিক্ত স্বাদ। ষোলশহর দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর হয়ে বহদ্দারহাট পর্যন্ত নগরীর প্রধান সড়কটির প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সড়কটিকে দেখে মনে হয়েছে ছোটখাটো একটি নদী। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ঘরমুখো লোকজনকে। এছাড়া নগরীর আগ্রাবাদ শান্তিবাগ, ব্যাপারীপাড়া, মেহেদীবাগ, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার ডিসি রোড, বাদুরতলা, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা, পাঠানটুলিসহ নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে নালা-নর্দমা ভরাট থাকায় পানি সরতে পারেনি। নগর পরিকল্পনাবিদরা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমের পুরোটা জুড়েই এমন অবস্থা থাকবে। দেখা যাবে জলাবদ্ধতার সেই পুরনো চিত্র। অবশ্য চউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকায় গৃহীত প্রকল্পটি ২০১৭ সালের আগস্টে একনেকে অনুমোদন হয়। এটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প হলেও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৬টি খাল আরএস খতিয়ান অনুযায়ী আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খালের উভয় পাশে ১৫ ফুট চওড়া রাস্তা ও খালের মুখে পাঁচটি স্লুইসগেট বসানো, সিল্ট ট্র্যাপ ও জলাধার নির্মাণ, ৩৬টি খাল খনন, নতুন করে ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১ লাখ ৭৬ হাজার মিটার দীর্ঘ রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও খালের উভয় পাশে ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কথা রয়েছে।

সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, এটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কতটুকু নিরসন হবে, তার একটা সঠিক চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ভিসি মুহাম্মদ সিকান্দার খান। তার মতে, এ কাজে অনেক অভিজ্ঞ লোকবলের দরকার। চট্টগ্রামের উন্নয়নের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকার সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক সিকান্দার খান রোববার যুগান্তরকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে আরও বেশি কথাবার্তা হওয়া উচিত। এতে দু’ভাবে লাভ হবে। প্রথমত, সরকার প্রকল্পটির বিষয়ে জনগণকে জানান দিতে পারবে। দ্বিতীয়ত, জনগণ তাদের চাওয়া-পাওয়া প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ৫ কোটি টাকারও প্রচার নেই। এটা কাক্সিক্ষত নয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ যুগান্তরকে বলেন, সেনাবাহিনী যে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে আশা করা যায়। তবে তার আগ পর্যন্ত জলাবদ্ধতার হাত থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি আমরা। এর মধ্যে রয়েছে যেসব এলাকায় পানি সরছে না সেসব এলাকার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×