দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক ও নৌপথ

ঈদযাত্রায় দুশ্চিন্তা বাল্কহেড ও হুইলারথ্রি

  তন্ময় তপু, বরিশাল ব্যুরো ২৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদযাত্রা

আসন্ন ঈদুল ফিতরে বাড়ি ফেরা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়ক এবং নৌ অর্থাৎ এ উভয় পথেই দুর্ঘটনা অহরহই ঘটছে।

দিন দিন দুর্ঘটনা বাড়লেও এর প্রতিকার হিসেবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি নজরদারি বা তৎপরতা থাকলেও কোনো কিছুই কাজে আসছে না দুর্ঘটনা রোধে। বিশেষ করে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রাতে চলাচল নিষিদ্ধ থাকা বাল্কহেডগুলোর কারণে দুর্ঘটনা রোধ মোটেই সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি লঞ্চ মাস্টারদের।

ঢাকা থেকে প্রতি ঈদে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ লঞ্চযোগে দক্ষিণাঞ্চলে আসেন। এর মধ্যে ১২ লাখ শুধু বরিশালে আসেন। বিপুল মানুষ ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য এই নৌপথকেই বেছে নেয়। কিন্তু তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলে দাবি কয়েকটি মহলের। সম্প্রতি কয়েকটি লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যেসব দুর্ঘটনার কারণ বাল্কহেড।

রাতে এসব বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এগুলো দিনের বেলায় চলতে পারবে। কিন্তু এরা দিনের বেলা নয়, বরং রাতে বেশি চলাচল করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। এতে করে যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে প্রায়ই ছোট থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটে।

শনিবার ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের অন্যতম পথ মিয়ারচর রুটের মেইন চ্যানেলে এমভি যুবরাজ-৭ এর সঙ্গে একটি বাল্কহেডের ধাক্কা লাগে। এতে বাল্কহেডটি মেইন চ্যানেলেই ডুবে যায়। পরে ৩শ’ যাত্রীর প্রাণ রক্ষার স্বার্থে মাস্টার লঞ্চটি নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে পাশেই একটি চরে উঠিয়ে দেয়া।

শুক্রবার রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পৌঁছালে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বিলাসবহুল এমভি মানামী লঞ্চের সঙ্গে একটি বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়। এতে এক যাত্রী গুরুতর আহতসহ লঞ্চের পাশের রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া কয়েকদিন আগে লালমোহন থেকে ঢাকাগামী রাঙ্গাবালী-২ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চও দুর্ঘটনাকবলিত হয় একই ধরনের নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়ে। এ সময় লঞ্চে পানি উঠে গেলে অন্য একটি লঞ্চ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাতায়াতকারী সুন্দরবন-১১ লঞ্চের মাস্টার আলমগীর জানান, বাল্কহেড চলার কথা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কিন্তু এ নৌযান চলাচল করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। উল্টা নিয়মে চলে। এরা কোনো নিয়মনীতি মানে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ চালাতে হয়। ঈদে যদি এরকম থাকে তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এমভি মানামী লঞ্চের মাস্টার আসাদ জানান, বেপরোয়াভাবে বাল্কহেডগুলো চলাচল করে।

এগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ দরকার। দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে নিরাপত্তা ও নিরাপদ ঈদযাত্রার বিষয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক এবং বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার যুগান্তরকে বলেন, রাতে এমনিতেই বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ। সেখানে বাল্কহেডগুলো অবৈধভাবে চলাচল করছে। এছাড়া ঈদের আগের সাত দিন ও পরের সাত দিন অর্থাৎ মোট ১৪ দিন এই নৌযান চলাচলই পুরো নিষেধ।

বরিশাল নৌসদর থানা পুলিশের ওসি আবদুল্লাহ মামুন জানান, রাতে বাল্কহেড যাতে নদীতে চলাচল করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ রয়েছে। ৩০ তারিখ থেকে নদীতে পুরোপুরিভাবে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিপদের আরেক নাম থ্রি-হুইলার। পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে এ থ্রি-হুইলার মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বেশ কয়েকজন চালকের। তারা জানান, অর্থ নিয়ে বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে থ্রি-হুইলার চালকদের। এসব যান মহাসড়কে চলাচল করায় বিব্রত অবস্থায় বাস চালাতে হয় চালকদের। যে কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতি ঈদের আগেই এ থ্রি-হুইলার বিরোধী অভিযানের কথা বলা হলেও তার কোনো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না পুলিশকে। এবারের ঈদেও সম্ভবত তাই হবে। বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধ। ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে আমাদের বাড়তি নজরদারি থাকবে। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এরা মহাসড়কে উঠলেই মামলা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×