যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদের কেনাকাটা তুঙ্গে

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহিমান্বিত রমজান মাস তার শেষ সময় এখন। আর মাত্র কয়েকটি রোজা বাকি আছে। তার পরই আসবে খুশির ঈদ। আর এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কে চলছে শেষ সময়ের কেনাকাটা। লাখ লাখ মানুষের ভিড় সেখানে। যারা এখনও ঈদের পোশাক কেনেননি, তারা কিনছেন। অনেকে কিনছেন আত্মীয়-স্বজনদের উপহার দেয়ার জন্য। আবার অনেকে কিনছেন জুতা, অলঙ্কার, প্রসাধনী, মোবাইলসহ নানা সামগ্রী। সব ধরনের কেনাকাটা এখন তুঙ্গে।

শনিবার যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। নানা বয়সী মানুষ নানা জায়গা থেকে ছুটে এসেছেন কেনাকাটা করতে। সকাল থেকেই মানুষের পদভারে মুখর মলটির সব ফ্লোর। সময় যত গড়িয়েছে মানুষের ভিড় তত বেড়েছে। সন্ধ্যায় তা রূপ নেয় জনারণ্যে।

রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে এসেছিলেন শাহেদ পাপ্পু ও তার স্ত্রী রূপা। দু’জনেই ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু কিনলেন। দু’জনেরই হাতভরা বেশ কয়েকটি করে ব্যাগ। যুগান্তরকে তারা বলেন, রাস্তায় জ্যাম এখন একটু কমে এসেছে। তাই আমরা সারা দিন যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটা করার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। এর আগে আরেকদিন এসেছিলাম। এখানকার আরামদায়ক পরিবেশ আমাদের শপিংয়ের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। আজকে গিফটের জন্য অনেকগুলো পোশাক, প্রসাধনী ও পারফিউম কিনেছি। আমরা এখানে এক ছাদের নিচেই সব জিনিসপত্র পাই, যার কারণে পরিশ্রমও হয় কম।

মহাখালী ডিওএইচএস থেকে ভাতিজা-ভাতিজিদের নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছিলেন শাকিব আহমেদ। তিনি বললেন, আজকে ওদের সবার ঈদ উপহার (কাপড়-চোপড়) কেনা হয়েছে। আর আমি নিজের জন্য একটি মোবাইল কিনেছি।

ইনফিনিটি, ক্যাটস আই, অঞ্জনস, কে-ক্রাফট, আড়ং, বাংলার মেলা, রেড, ইয়েলোসহ ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সব শপে ছিল মানুষ আর মানুষ। সবাই যার যার পছন্দের পোশাক, প্রসাধনী কিনেছেন। ইনফিনিটির যমুনা ফিউচার পার্ক ব্রাঞ্চের ম্যানেজার এএনএম আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ক্রেতা সমাগমে মুখর আমাদের শোরুম। এখনও অনেকের ঈদ কেনাকাটা বাকি আছে। চাঁদরাত পর্যন্ত এ কেনাকাটা অব্যাহত থাকবে।

চাই নতুন জুতো : এ সময়টাতে ঈদের কেনাকাটায় যুক্ত হয় জুতো। নতুন জামা-কাপড়ের সঙ্গে একজোড়া নতুন জুতো না হলে কী ঈদ জমে! যমুনা ফিউচার পার্কে তাই পোশাকের শোরুমের পাশাপাশি ভিড় লেগেই আছে জুতোর দোকানগুলোতেও।

শনিবার বিকালে লেভেল থ্রিতে বাটার শোরুমে ঢুকতেই দেখা গেল সেখানে মানুষ আর মানুষ। জুতো পছন্দ করে কিনে ব্যাগে ভরছেন। সপরিবারের রামপুরা থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী শামীম জাহান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি বাটার এত বড় শোরুম আর কোথাও নেই। এখানে এলে মনের মতো ঘুরেফিরে বিশাল কালেকশন থেকে জুতা কিনতে পারি আমরা। তাই জুতা ক্রয়ের জন্য সেরা যমুনা ফিউচার পার্ক।

কথা হল যমুনা ফিউচার পার্কের বাটার স্টোর ম্যানেজার মামুন অর রশীদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, আমাদের বিক্রি খুব ভালো। কালেকশন প্রচুর বলে মানুষ ছুটে আসেন।

এখানকার বাটার শোরুমে লেদার ও আর্টিফিশিয়াল লেদারের জুতা পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেদের জুতার মধ্যে পাওয়ার ব্র্যান্ড ২৯৯৯-৪৯৯৯ টাকা, লোপার ২৫৯৯-৬৯৯৯ টাকা, ফরমাল শু ২৯৯৯-১৩,৯৯৯ টাকা, হাশপাপিজ সু ৪৯৯৯-১৪৯৯৯ টাকা, স্যান্ডেল ২৫৯৯-৭৯৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাটায় মেয়েদের জুতার মধ্যে কয়েকটি ব্র্যান্ড আছে। এর মধ্যে রেড লেভেলের দাম পড়বে ২৯৯৯-৪৯৯৯ টাকা, কমপিট ১৫৯৯-২৯৯৯ টাকা, শোল ১৫৯৯-৩৪৯৯ টাকা। বাচ্চাদের জুতা পাওয়া যাবে ৯৯৯-২৩৯৯ টাকায়।

লেভেল থ্রিতে আরেক পাশে এপেক্সের বিশাল শোরুম। এখানেও নতুন নতুন ডিজাইনের জুতার সম্ভার। এখানে মেয়েদের স্লিপারের দাম পড়বে ৬৯০-২১৯০ টাকা, মিডিয়াম হিল ৯৯০-২৪৯০ টাকা, হাইহিল ২৪৯০-৩৮৯০ টাকা। ছেলেদের স্যান্ডেলের দাম পড়বে ১৬৯০-৬৯৯০ টাকা, শু ১৬৯০-২৫০০০ টাকা, লোপার ১৯৯০-৭৯৯০ টাকা। স্টোর ম্যানেজার আল মামুন বললেন, এবার একেবারে রোজার শুরু থেকেই আমাদের বিক্রি বেশ ভালো।

ওপাশে অরিয়নের শোরুমেও রয়েছে বাহারি সব জুতা। মেয়েদের লোপার, পাম্পি, স্যান্ডেল, স্লিপার, হিল ছেলেদের পাম্পি, স্যান্ডেল, লোপার সব ধরনের জুতা পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে ১০০০-১০০০০ টাকার মধ্যে। এ শোরুমেও দেখা গেছে বেশ ভিড়।

একইভাবে টিনস ক্লাব ও পাখিতেও দেখা গেল জুতার সম্ভার। এ দুই শোরুমের বেশিরভাগ জুতো থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আনা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×