২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট

বড় নির্বাচন না থাকায় কমছে ইসির বরাদ্দ

আগামী অর্থবছরে ১৯২০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ইভিএমেই যাবে ১১২৪ কোটি * ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা

  কাজী জেবেল ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বড় নির্বাচন না থাকায় কমছে ইসির বরাদ্দ

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য বরাদ্দ কমছে। আগামী অর্থবছরে বড় ধরনের কোনো নির্বাচন না থাকায় এবারের চেয়ে বরাদ্দ কমিয়ে আনা হচ্ছে।

নতুন অর্থবছরের জন্য বাজেটে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। যা বর্তমান অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। এবার ‘পরিচালন’ ও ‘উন্নয়ন’ উভয় খাতে ইসি বরাদ্দ ৩ হাজার ৩শ’ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী অর্থবছরে জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার ১২৪ কোটি টাকাই যাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার খাতে। পরিচালন খাতের বরাদ্দের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং অন্যান্য নির্বাচনে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা।

ওই অর্থবছরে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ধরা হচ্ছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা।

এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদের মতো বড় বড় নির্বাচন এ অর্থবছরেই শেষ হয়ে গেছে। আগামী অর্থবছরে তিন সিটি কর্পোরেশন ও ছোটখাটো নির্বাচন আছে।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ইসির জন্য বরাদ্দ থাকছে ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা পরিচালন খাতের বরাদ্দ। উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

এবার উন্নয়ন খাতে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। ইসির কর্মকর্তারা জানান, পরিচালন খাতের বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন ধরনের নির্বাচন পরিচালনা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কর্মকর্তাদের বেতন ও বিভিন্ন খাতে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আর ইসির অধীনে চলমান প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয় উন্নয়ন খাতে।

আরও জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের ইসির বরাদ্দের বেশিরভাগই ইভিএম কেনায় ব্যয় হবে। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের ১ হাজার ১৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকার মধ্যে ইভিএম খাতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ইভিএম কেনায় সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ৭৯৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের জুলাইতে দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে ইসি। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, প্রকল্প শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। থোক বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ১০ কোটি ১ লাখ টাকা। তবে স্মার্টকার্ড সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেনসিং একসেস টু সার্ভিসেস’র (আইডিইএ) জন্য কোনো বরাদ্দ ধরা হয়নি।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানো আইডিইএ প্রকল্পের সময় শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ৯ মাস বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে কমিশন সচিবালয়।

১৮ বছরের কম বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে নির্বাচন কমিশন। এর আওতায় ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৬৭ কোটি টাকা। আর ভোটার তালিকা হালনাগাদে ধরা হচ্ছে ৫৭ কোটি টাকা। বাকি বরাদ্দ অন্যখাতে ব্যয় ধরা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×