যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটার ধুম

মেট্রো ফ্যাশনসহ নামিদামি শোরুমে উপচে পড়া ভিড়

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটার ধুম

দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আর মাত্র দু’দিন বাকি।

শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে নগরীর অভিজাত শপিংমলগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পছন্দের পোশাকের খোঁজে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন ক্রেতা।

রাজধানীসহ পুরো দেশ পরিণত হয়েছে কেনাকাটার মহোৎসবে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কসহ কয়েকটি শপিংমল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

রোববার সকাল থেকেই যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা ভিড় করেন। সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শপিংমলের রাস্তার সামনেও দেখা গেছে ক্রেতাদের গাড়ির দীর্ঘ সারি। কেউ কেনাকাটা করে বের হচ্ছেন, আবার কেউ ঢুকছেন। পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী, জুতোসহ সবকিছুর দিকেই দৃষ্টি ক্রেতার।

যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের বেচাকেনার ধুম। কেউ কিনছেন নিজের জন্য, কেউবা প্রিয় মানুষটার জন্য। অনেকেই সপরিবারে এসেছেন ঈদের পোশাক কিনতে।

বন্ধুবান্ধবীদের নিয়েও পোশাক পছন্দ করছেন অনেকে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সামলাতে হচ্ছে বাড়তি চাপ। এবারের ঈদ কেনাকাটায় সুতি কাপড়ের প্রাধান্য দেখা গেছে।

মূলত গরমে ঈদ হওয়ায় সুতি কাপড়ের কদর বেড়েছে। যারা পোশাক কিনছেন তাদের বেশিরভাগই নতুন মডেলের পোশাক খুঁজেছেন। ঈদের সঙ্গে মানানসই পোশাক খুঁজতে এ-ও দোকান ঘুরতে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের। আড়ং, অঞ্জন’স, দেশীদশ, নবরূপা, মেট্রো, জেন্টাল পার্ক, ইনফিনিটি, ক্যাটসআইসহ দেশের সব শীর্র্ষ ব্র্যান্ডের দোকানে ক্রেতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এছাড়া তরুণীদের এবারের আকর্ষণ ছিল ঈদের সেরা সমাহার সারারা ও গারারা ড্রেস ঘিরে। ভালো মানের সারারা ও গারারা কিনতে তরুণীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।

অবশ্য যমুনা ফিউচার পার্কের জোন-ডি ও জোন-বি’তে থাকা মেট্রো ফ্যাশনের দুটি শোরুমে উন্নতমানের সারারা ও গারারা ড্রেস থাকায় ক্রেতার ভিড় বেশি ছিল।

ভারতীয় ও পাকিস্তানি গারারা ও সারারা কিনে খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন তরুণীরা। সারারা-গারারার পাশাপাশি মেট্রো ফ্যাশনে কেনেন লং গাউন, ব্রাইডাল গাউন, শাড়ি, স্টোন থ্রি-পিসও তরুণীদের নজর কাড়ে। আর ছেলেদের পাঞ্জাবির চাহিদা ছিল বেশ।

রামপুরা থেকে মেট্রো ফ্যাশনে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম বলেন, মেট্রো ফ্যাশনে ভালোমানের পোশাক পাওয়া যায়। তাই যে কোনো উৎসব-পার্বনে এখান থেকে পোশাক কেনা হয়।

তিনি বলেন, ঈদে অন্য সব শোরুম পোশাকের দাম বাড়ানো হলেও এখানে সারা বছর একই দামে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। এসব পোশাক দেখতে সুন্দর। স্থায়িত্বও বেশি।

সপরিবারে যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা খিলক্ষেতের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, যমুনা ফিউচার পার্ক আয়তনে বড়। তাই স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়, হুড়োহুড়ি-ধাক্কাধাক্কি নেই। আর দেশের সব বড় ব্র্যান্ডের শোরুম আছে। অর্থাৎ এক ছাদের নিচে পরিবারের সবার কেনাকাটা করা যায়। তাই এখানে আসা।

কয়েকটি শোরুমের বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ঈদ গরমের মধ্যে হওয়ায় সবাই সুতির কাপড়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাচ্চা ও ছেলেদের সুতি পাঞ্জাবিতে বিভিন্ন ডিজাইনের সুতার কারুকাজ করা হয়েছে। অবশ্য এবার প্রিন্টের পাঞ্জাবিতে ঝোঁক বেশি। এছাড়া জিন্স প্যান্ট, নরমাল প্যান্ট, থ্রি-কোয়ার্টার সেট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, গেঞ্জি, শার্ট ইত্যাদি রয়েছে ছেলেশিশুদের জন্য। আর লেস, ফিতা, কারচুপি ও স্টোনের কাজসমৃদ্ধ মেয়েদের সুতির ওয়ান পিসের বিক্রি ভালো। তাছাড়া গাউন, স্কার্ট ও লেহেঙ্গাও বিক্রি হচ্ছে।

প্যারিস গ্যালারির ম্যানেজার মোজাম্মেল হক বলেন, এবার আগেভাগেই ঈদ কেনাকাটা শুরু করেছেন রাজধানীবাসী। ঠিকমতো আমদানি করা পোশাক ডিসপ্লে করার মতো সময় পাওয়া যায়নি। শেষ সময়ে ক্রেতার ভিড় সামলানো যাচ্ছে না। মধ্যরাত পর্যন্ত শোরুম খোলা রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার যথেষ্ট ক্রেতা আছে। মানুষের মধ্যে কেনাকাটার আগ্রহ আছে। গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি ভালো।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×